Category: রাজনীতি

  • পদ্মা সেতু দিয়ে বিএনপি নেতারা কখন যাবেন সে অপেক্ষায় আছি: তথ্যমন্ত্রী

    বিএনপি নেতারা কখন পদ্মা সেতু দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাবেন, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন বলেন জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।সোমবার (৩ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকতা পেশার মানদণ্ড বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এদিন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে কাউন্সিলের সদস্যরা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

    মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু একটি স্বপ্নের সেতু, এরইমধ্যে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোনকে (শেখ রেহানা) নিয়ে পদ্মা সেতুর এপার থেকে ওপারে গাড়ি চালিয়ে গেছেন। সেখানে খুশিতে দুই কিলোমিটার হেঁটেছেন। গাড়ি চালিয়ে ওপার থেকে এসেছেন, তার মানে পদ্মা সেতু হয়ে গেছে।তিনি বলেন, এই পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশি-বিদেশি বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো পদ্মা সেতু করতে পারবে না, যদিও করে জোড়াতালি দিয়ে একটি সেতু হবে’।পৃথিবীর সব সেতু কিন্তু জোড়া দিয়েই হয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু পদ্মা সেতুর এপার থেকে ওপারে গেছেন, ওপার থেকে এপারে এসেছেন, এখন বিএনপি নেতারা কী বলবেন সেটি শোনার অপেক্ষায় আছি। বিএনপি নেতারা কখন পদ্মা সেতু দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাবেন সেটির জন্য বসে আছি। কারণ, তারা এ সেতু নিয়ে অনেক বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

    ড. হাছান বলেন, বিশ্বব্যাংকের যারা এই সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, আশা করছি তারাও পদ্মা সেতু দেখে আসবেন, সেই অপেক্ষায়ই আছি। একটি দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উপড়ে ফেলে এমন একটি সেতু করতে পারে, এটা তারই নজির। যারা পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল তারা নিশ্চয়ই পদ্মা সেতু দেখে লজ্জিত হবেন।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বহুমাত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমাদের দেশে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা, তা অনেক উন্নয়নশীল দেশে নেই। উন্নত দেশগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন আছে, সেখানে জবাবদিহিতাও আছে।তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বিরোধের উদ্ভব হলে সেটি প্রেস কাউন্সিল নিষ্পত্তি করে। কিন্তু বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল আইনে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা খুবই সীমিত। প্রেস কাউন্সিলের জরিমানা করার ক্ষমতা নেই। আমরা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে প্রেস কাউন্সিল জরিমানা করতে পারে। ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। আইন সংশোধন করে খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইনে আইনমন্ত্রী সই করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছি, রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করলে সেটি সংসদে পাঠিয়ে দেব। এ মাসে শীতকালীন অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। সংসদীয় কমিটি মতামত দেবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্যই এ আইন। এ আইন গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা দিতে পারবে।‘২০২২ সালই হবে সরকারের শেষ সময়’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, ফাঁকা কলসি বেশি বাজে। এমন আলটিমেটাম তো গত ১৩ বছর ধরে পেয়ে আসছি। এই সাল সেই সাল, এই ঈদ সেই ঈদ, ঈদের পরেই হবে, বর্ষার পরেই হবে, শীতের পরে এই হবে সেই হবে- এরকম কথা তো মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা বরাবরই বলে আসছেন। তাদের এ কথাগুলো ফাঁকা কলসি বাজানোর মতো।এসময় তথ্যসচিব মকবুল হোসেন ছাড়াও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে কাউন্সিলের সদস্য ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মনজুরুল আহসান বুলবুল ও সেবিকা রানীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে’

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিদের নিয়েই তাদের রাজনীতি। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে।আজ সোমবার (৩ জানুয়ারি) তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    সরকারের পতন-ঘণ্টা বেজে গেছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে বিএনপি নেতারা এতটাই অন্ধ ও বধির যে, বহু আগেই জনগণ তাদের পতন-ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে, তা তারা শুনতে পায় না।বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলন আর নির্বাচনে চরম ব্যর্থতায় কি তাদের শেষ ঘণ্টা বাজেনি? বিএনপির কথা ও কাজে মিল নেই। তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি তাদেরই রাজনীতির অন্যতম প্রধান বাধা।তিনি বলেন, জনগণ কি চায়, কি চায় না- তার মানদণ্ড বা পরিমাপক হচ্ছে নির্বাচন। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো চোরাগলি খোঁজা গণতন্ত্রে সংবিধান সম্মত নয়। এসব অপতৎপরতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীতে অবস্থান করছে। জনগণ চাইলে বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে।এ সময় বিএনপিকে কথামালার ফেনায়িত তরঙ্গ না তুলে নির্বাচনমুখী হওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।

    বিএনপির বিভিন্ন জেলার কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিচ্ছে- দলটির নেতাদের এমন অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তাদের মিথ্যাচার সর্বজনবিদিত। বাধা তো নয়ই বরং সরকার সহযোগিতা করেছে। সরকার সহযোগিতা না করলে এ পর্যন্ত ৩২ জেলায় সমাবেশ করতে পারত কি? বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দায় সরকারের ওপর চাপানো তাদের স্বভাব।

  • গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ওবায়দুল কাদেরের আহ্বান

    গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।শনিবার (১ জানুয়ারি) ওবায়দুল কাদের তাঁর বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ আহ্বান জানান।

    এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।আওয়ামী লীগ গণ মানুষের দল হিসেবে নতুন বছরে নতুন আশা ও প্রত্যাশায় নয়া উৎসর্গীকৃত চেতনায় নবতর পথযাত্রার সূচনা করতে চায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগকে আরো সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত, আধুনিক ও স্মার্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে এদেশের গণ মানুষের স্বপ্ন পূরণে ইতিবাচক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সকল কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের প্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথরেখায় ইতিবাচক ধারায় আরো বলিষ্ঠ ও বেগবান করার আশাবাদ ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর।

  • আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি : কাদের

    বিদায়ী বছরে নির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যান আর আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

    ‘বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকার পতন আন্দোলনে ব্যর্থতা এবং সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে ওয়ার্মআপ চলছে’, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো ওয়ার্ম আপেই কাজ হবে না, নেতিবাচক এবং হঠকারী রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপিকে চিনে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, তারা আবার সরকার পতনের দিবা স্বপ্ন দেখছে। তারা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়নি।বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার পতন, আন্দোলন – এসব মুখরোচক শব্দ বৃষ্টি করে কোনো লাভ নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যম আর নির্বাচন ছাড়া পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।  এ সময় অলিগলি পথে না হেঁটে নির্বাচনমুখী হওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। সরকার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা যখন এসব কথা বলেন তখনও স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের বগলদাবায়।

    তিনি আরও বলেন, দেশবিরোধী সকল অপশক্তির অভিন্ন প্লাটফর্ম হচ্ছে বিএনপি। যারা নিজেরাই স্বাধীনতার চেতনা নস্যাতে জন্মলগ্ন থেকেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এসেছে, আওয়ামী লীগই এর সুরক্ষা দিতে পারে জনগণকে সাথে নিয়ে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, হরণ করেছিল কৃষক শ্রমিকের অধিকার। ভোট না দেওয়ার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল, আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন চলাচলের অধিকার হরণ করেছিল।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, এগিয়ে নিয়েছেন দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে। এজন্যই সরকারের উন্নয়নের রাজনীতিতে বিএনপি ঈর্ষাকাতর। বিএনপি নিজেদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখে হতাশায় কাতর। জনগণের সামনে দাঁড়ানোর সাহস এবং বলার মতো কিছুই নেই বিএনপির। তাইতো বিএনপি মিথ্যাচারের সঙ্গী ও অপপ্রচারের বন্ধু হয়েছেন এবং জোট বেঁধেছেন অপরাজনীতির সাথে।

  • আবারো অনুরোধ করছি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন: নজরুল

    সরকারকে দানবিক না হয়ে মানবিক হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা দেশে বিশৃঙ্খলা চাই না। তাই বারবার সরকারকে অনুরোধ করছি। যাতে অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আবারো অনুরোধ করে বলি মানবিক হোন, দানবিক হবেন না। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে তাকে যারা ভালোবাসেন তারা যে কী করবেন আমরা তা জানি না। যারা আমাদের সংগঠনের সদস্য তারা আমাদের নিজেদের নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আছে। কিন্তু যারা আমাদের শৃঙ্খলার মধ্যে নেই তাদের নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য আমাদের নেই। তারা তো আমাদের হুকুম শোনেন না। আল্লাহ না করুক, খালেদা জিয়ার কিছু হয়ে গেলে তারা যে কী করবেন তা আমরা জানি না।

    শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে।  সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।নজরুল ইসলাম খান বলেন,  আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি বলে আজকে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করছি। সরকারকে চিঠি দিচ্ছি, সাক্ষাৎ করছি, মিছিল করছি, অনশন করছি, মানববন্ধন করছি। আপনারা যদি আমাদের গণতান্ত্রিক আচরণ গ্রাহ্য না করেন তাহলে যারা খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন তারা যে কী করবেন আমরা তা জানি না। দেশে বিশৃঙ্খলা চাই না বলে আমরা তাদের অনুরোধ করছি।তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে সুচিকিৎসার জন্য আন্দোলন করতে হয় এমন কথা কখনো শুনিনি, দেখিওনি। কোন সভ্য দেশে নাগরিকদের সুচিকিৎসার জন্য আন্দোলন করতে হয় এটা অস্বাভাবিক। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে ক্ষমতার জোরে একটি দেশকে অসভ্য দেশে পরিণত করা হচ্ছে। দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এটিকে কীভাবে স্বাভাবিক বলা যায়।

    বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, কেউ বলে তিনি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। তবে সেখানে টাকা ছিল দুই কোটি, আজ সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটিরও বেশি। এক পয়সাও সেখান থেকে কেউ নেয়নি। কিন্তু গত ১০ বছরে এই দেশ থকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের শেয়ারবাজার লুট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে। এটা কে করেছে তা বের করুন, তাদের শাস্তি দিন। তা নাহলে সবাই মনে করবে এর সঙ্গে আপনারা জড়িত। অর্থমন্ত্রী তদন্ত কমিটি গঠন করলেন। তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে অর্থমন্ত্রী বললেন- ‘এ রিপোর্ট তো প্রকাশ করতে পারবো না’। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ লোকজন জড়িত আছে। এরা কারা জনগণ জানতে চায়। এই পরিমাণ টাকা যদি দেশের তহবিলে থাকতো তাহলে বিদেশিদের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো না।আজকে অমানবিক আচরণ শুধু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে না প্রতিটি মানুষের বিরুদ্ধে। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ নিয়ে সম্মেলন হয়, আর আমাদের সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয় না। তারা বিশ্বাসই করে না বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আজকে দেশের বড় বড় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু তাদের জন্য লজ্জাকর বিষয় না, পুরো দেশের জন্য লজ্জাজনক, যোগ করেন নজরুল ইসলাম খান।

  • সংলাপে না এলেও নির্বাচনে আসবে বিএনপি : ওবায়দুল কাদের

    রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিএনপির আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের জন্য খারাপ খবর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।

    এ সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে আসবে না, এটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য খারাপ খবর। তবে, গাধা যেমন পানি ঘোলা করে পানি খায়, বিএনপিও পানি ঘোলা করে নির্বাচনে আসবে।বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই নির্বাচনে আসবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের নির্বাচনে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কারণ তারা জানে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অর্জনে জনগণের ভোটে বিএনপি জয়লাভ করতে পারবে না। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, এটা হলো তাদের এজেন্ডা।নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার বিষয়ে সংলাপে অনেক রাজনৈতিক দল প্রস্তাব দিয়েছে, এক্ষেত্রে আইন করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারই আইনটা হতো, মহামারির কারণে সম্ভব হয়নি। এবার না হলে আগামীবার হবে। এবার সময় একেবারেই হাতে নেই। এ সময়ে আইন করার মতো পরিস্থিতি একেবারেই ছিল না। সার্চ কমিটি গঠন, যেটা এবার হচ্ছে, গতবারও হয়েছে। সেটাও আইনের বাইরে নয়, নিয়মের বাইরে নয়, সংবিধানের বাইরে নয়।

    এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়লাভ করবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গত দুই নির্বাচনে আমরা নারায়ণগঞ্জে জয়লাভ করেছি। এবারও জয়লাভের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি, বিজয়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। জনমতের সমর্থনের পাল্লা আমাদের প্রার্থীর দিকেই ভারী। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দল করলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। নিজেদের মধ্যে ছোটখাট কিছু হয়ে থাকলে, সেটা নিরসন হবে।এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সংলাপে কেউ না এলেও ইসি গঠন থেমে থাকবে না : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নেতিবাচক রাজনীতি থেকে সরে এসে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি এগিয়ে আসবে বলে আশা করি। কেউ সংলাপে আসুক বা না আসুক নির্বাচন কমিশন গঠন থেমে থাকবে না।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আজ বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির সংলাপ অর্থহীন এবং এই সংলাপে নাকি সংকটের সমাধান হবে না, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এর আগেও নির্বাচন কমিশন গঠনে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।গতবারও বিএনপির তালিকা থেকে একজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে বিএনপি কি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চায়, নাকি বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়।সরকার নাকি দেশকে অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার নিরলস প্রয়াসে বিএনপিই পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। বিএনপির বহুদলীয় তামাশা আর ভোটারবিহীন নির্বাচনই দেশকে গণতন্ত্র থেকে ছিটকে দিয়েছিল।

    সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে বিএনপিই গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক ও লুটপাটের রাজনীতির জনক বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের বুলি ছাড়লেও অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা আর সুবিধাবাদ লালন করে। বিএনপিই এদেশকে ধর্মান্ধ, উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।বিএনপি নেতাদের অবিরাম মিথ্যাচারের দাপটে এখন আর তাদের বক্তব্যে সত্যের লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যায় না এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়ার মামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা মিথ্যাচার আর অপরাজনীতির উপরই ভরসা করে চলেছে। বন্দী বেগম জিয়া অধিকতর শক্তিশালী- এ দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তারা মুক্তির চেষ্টাও করেনি। আইনগত লড়াইও তেমনটা করেনি। তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপরাজনীতির দাবার গুটি হয়েছেন বেগম জিয়া।বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও অতিরাজনীতি করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা চিকিৎসার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলকেই অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। বরং শেখ হাসিনাই বেগম জিয়ার প্রতি উদারতা ও মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন। অথচ সেই কৃতজ্ঞতাবোধও বিএনপিতে নেই।

  • সরকার পুলিশকে লাঠিয়ালে পরিণত করেছে : রিজভী

    ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার নয়াপল্টনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশের অংশ হিসেবে আজ ছয়টি জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হবিগঞ্জে সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পুলিশকে অবহিতপত্র দেওয়া হয়েছিল। দুপুর ১২টায় শায়েস্তানগর দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরুর পরপরই পুলিশ বিনা উসকানিতে অতর্কিত হামলা চালায়, গুলিবর্ষণ করে। এতে আমাদের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

    তিনি দাবি করেন, পুলিশের গুলিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক, ছাত্রদল হবিগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রিঙ্গন, যুবদল জেলা সাধারণ সম্পাদক জালাল, ছাত্রদল জেলা সদস্য সাইদুর রহমান, বিএনপি নেতা শরীফ, ছাত্রদল জেলা সদস্য আরশাদ, জেলা যুবদল যুগ্ম সম্পাদক শফিকুর রহমান সিতু, ছাত্রদল জেলা যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আহাদ তুষার, মৎস্যজীবী দল নেতা মোবারক হোসেন, শিপন আহমেদ, শাহজাহান, জাহির আলী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রিঙ্গনসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলা ও গুলিবর্ষণ বর্বরোচিত, কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক। বন্দুকের জোরে ক্ষমতাসীনরা অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এ হামলা চালিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছে। রিজভী বলেন, সরকার দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন লাঠি ও গুলিকেই আশ্রয়স্থল মনে করছে। গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সহিংস সন্ত্রাসের চর্চা করছে। পুলিশকে বানিয়েছে সরকারি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের হাতিয়ার। মানুষের সমাবেশ দেখলেই এদের মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হয়।

    সরকার জনগণের ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছে- দাবি করে রিজভী বলেন, দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক চলছে। হবিগঞ্জে পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

  • খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে মতামত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় খুব শিগগির মতামত জানাবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    খালেদা জিয়ার অন্যান্য বিষয়ে দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জানানো হলেও বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন কেন মতামত দেওয়া হচ্ছে না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আমি খুব শিগগির আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত দিয়ে দেবো।তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে আমার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি সমর্থিত ১৫ জন আইনজীবী এসেছিল। তাদের বক্তব্যে কোথাও কোনো আইনি সাপোর্ট ছিল না। তারা যে বক্তব্য দিচ্ছে কোনো আদালতও সেটা সাপোর্ট করে না বরং আমি যে বক্তব্য দিয়েছি, আমি সংসদেও বলেছিলাম, অনেক রায়ে সেটার সাপোর্ট রয়েছে।আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কিনা- সে প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে এটা আইনের দিক দিয়ে দেখতে হবে। কারণ সরকার যখন কোনো পদক্ষেপ নেবে, সেটা অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ হতে হবে।তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং তার মানবিক পদক্ষেপে যেটা সিদ্ধান্ত ছিল তার অভিব্যক্তি হচ্ছে এই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় তার দ্বন্দ্ব স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া।

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, তাতে তথ্যের ভুল ছিল। সেই ভুল তথ্যের ব্যাপারে আমার সঙ্গে যখন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের দেখা হয়, তখন আমি সেটা পরিষ্কার করেছি।আইনমন্ত্রী বলেন, হাইকমিশনারকে পরিষ্কারভাবে আমাদের আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং বেগম খালেদা জিয়া যে মুক্ত এবং তার আইনি অবস্থানটা তাদের বুঝিয়েছি। শেষ কয়েকদিন আগেও আবার আমার সঙ্গে যখন তাদের কথা হয়েছে, তারা সেই বিষয়টা কারেকশন করবে বলেছে।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সারাবিশ্বের মানবাধিকার রক্ষার ওয়াচডগ। সরকার পরিচালনা করতে গেলে একটি দ্বন্দ্ব তাদের সঙ্গে থাকবে। তাদের একটি বক্তব্য থাকবে, সরকারের একটি বক্তব্য থাকতে পারে। আমি সেই বক্তব্যে দ্বন্দ্বের কথাই উল্লেখ করেছি এর আগে।

  • দেশের উন্নয়নকে অস্বীকার করা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র: কাদের

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যত বিনির্মাণ গতিশীল হয়। একে অস্বীকার করাও এক ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সামিল। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন তিনি। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠানো হয়।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মাইলফলক স্পর্শকারী বাংলাদেশের অসংখ্য প্রাপ্তি বিএনপি নেতাদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে জাতিদ্রোহী-দেশদ্রোহীদের যেমন গাত্রদাহ হয় ঠিক তেমনি দলটির নেতাদেরও সহ্য হয় না। রাজনৈতিক হীনমন্যতার কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যে বিচলিত হয়ে পড়ে দলটি নিজেদের পরাজিত মনে করে। এমনকি সত্যকে স্বীকার করার সাহস পর্যন্ত রাখে না। তিনি বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যত বিনির্মাণ গতিশীল হয়; উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অস্বীকার করাও এক ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সামিল। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিএনপি এতোই অন্ধ যে, কোনো উন্নয়ন ও প্রগতি তাদের চোখে পড়ে না। স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনো প্রাপ্তি খুঁজে পায়নি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিতে কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার জিয়া-মোশতাকের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করার গভীর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির উত্তরাধিকার এবং একাত্তরের ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও তাদের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামের এই হতাশা ও মর্মবেদনাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ বিকাশের প্রধান অন্তরায়।

    তিনি বলেন, বিএনপি নামক যে দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপরাজনীতিতে লিপ্ত, যারা ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের কাছ থেকে ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে কোনো প্রাপ্তি খুঁজে পাইনি,’ এ ধরনের মন্তব্যই স্বাভাবিক। কাদের বলেন, সমগ্র জাতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুগপৎভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ‘মুজিববর্ষ’ মহা-আড়ম্বরে উদযাপন করেছে। এমন একটি মহতী ক্ষণে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে কোনো প্রকার ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলে না ধরে চিরাচরিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর। আমরা তাদের এই ষড়যন্ত্র, অপকৌশল ও অপপ্রচারের রাজনীতি পরিত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক ও সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি আছেন ওবায়দুল কাদের। বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখন তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন, তবে আরও কতদিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে সেটি নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে।

error: Content is protected !!