এটিএম আফছার আলী, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসি।
স্থানীয়দের নিকট জানা গেছে, উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের আব্দুল খালেক কসাইয়ের কন্যার সাথে পাশর্^বর্তী খামার পাঁচগাছি গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে সুরুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রেম বিনিময় করে আসছে। এরই একপর্যায় ৪ জুলাই রাতে সুরুজ মিয়া খালেক কসাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তার কন্যার সাথে অসামাজিক কার্যকালাপ লিপ্ত অবস্থায় দেখে ফেলে বাড়ির লোকজন সুরুজ মিয়াকে ঘরের ভিতরে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরদিন উভয়পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে স্থানীয় আবু সামা মিস্ত্রির বাড়িতে সুধি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে গ্রাম্য শালিস বসে। শালিসের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক আছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট শালিস বোর্ড গঠন করে ছেলে-মেয়ের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। সেখানে খালেকের কন্যা শালিসি বোর্ডের সদস্যদেরকে জানায় সুরুজ আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেলামেশা করে আসছে। কিন্তু সুরুজ মিয়া তা অস্বীকার করে। একপর্যায়ে ঘরের মধ্যে থাকা একটি পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে সুরুজ মিয়ার হাতে দিয়ে সত্য কথা বলতে বলে। এসময় সুরুজ মিয়া পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে কিছু না বলে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনার পর শালিস বোর্ডের সদস্যরা ঘরে থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান জানার পর শালিসি সভা পন্ড করে দেয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ঘটনাটি জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কোরআন অবমাননার দায়ে রাতেই এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। মেয়ের মা রহিমা বেগম জানান, শালিসের লোকজন ছেলে-মেয়ের মতামত নিতে আসলে ছেলে কোরআন শরিফ অবমাননা করে। এরপর শালিস পন্ড গেলে ছেলে সুকৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত জনতা শোভাগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়া জানান, শালিসের লোকজনের সামনে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননা করার কথা শুনে শালিস পন্ড করে দেয়া হয়। থানা ওসি আতিয়ার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান- বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।