
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, কৃষি রক্ষা, কৃষক-ক্ষেতমজুরদের বাঁচার লড়াই জোরদার ও শ্রমজীবি-নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনের দাবীতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ মার্চ) সকালে শহরের ১নং রেলগেটে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন জেলা শাখার সদস্য সচিব মনজুর আলম মিঠু, বীরেন চন্দ্র শীল, কৃষকনেতা জাহিদুল হক, আশরাফুল আলম আকাশ, কৃষ্ণ চন্দ্র পাল ও সবুজ মিয়া প্রমুখ।
বক্তারাগন বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। জনপ্রতিনিধিত্বহীন মহাজোট সরকার দেশে এক চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। মানুষ দেখছে লুটপাট-দুর্নীতির মাধ্যমে শাসক শ্রেণি ও তাদের ঘনিষ্ঠরা টাকার পাহাড় বানাচ্ছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ দারির্দ্য -বেকারত্ব-মূল্যবৃদ্ধির চাপে জর্জরিত। চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্য লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্বিষহ অবস্থা। বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে মানুষ যখন দিশেহারা তখন সরকার আবারও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সবচেয়ে বিপর্যস্তের সংগে যুক্ত মানুষগুলো। ক্ষেতমজুরদের এমনিতেই বছরে ৯ মাস কাজ থাকেনা। উপরন্তু কৃষিতে ক্রমাগত যান্ত্রিকীকরণের ফলে তাদের কাজ আরও সীমিত হচ্ছে, যা বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় আলু চাষীরা বিপাকে। উৎপাদিত ফসলের দাম না পাওয়া কৃষকদের জন্য নিয়মে পরিণত হয়েছে। ক্রমাগত সার-বীজ-কীটনাশকের দাম বাড়ছে। ভেজাল-নকল ও নিম্নমানের সার-বীজ-কীটনাশকে বাজার সয়লাব হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কো¤পানির বন্ধ্যাবীজ কৃষিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। নানা অজুহাতে কৃষি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশব্যাপী কৃষি জমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত বৈধ-অবৈধ অসংখ্য ইট ভাটা গড়ে উঠেছে, যা স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের উপর মারাÍক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। করোনা পরিস্থিতিতে যথার্থ পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থ সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। ক্ষেতমজুর-কৃষকসহ নিুআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে। ওষুধ, পরীক্ষা ও কমিশন বাণিজ্যের নামে মানুষের বিপুল অংকের টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি অভাবে প্রসূতি মা সন্তান বিক্রি করে ক্লিনিকের খরচ মেটাচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের মহোৎসব চলছে। করোনাকালে কর্মহীনতা আরও বেড়েছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও কর্মক্ষম বেকার যুবক নিদারুণ হতাশায় ভুগছে, এমনকি অনেকে আত্মহত্যাও করছে। অথচ সরকার করোনার মধ্যেই দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, ৯টি চিনিকল বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান-ইজিবাইক আধুনিকায়ন না করে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তথাকথিত দাতাগোষ্ঠীর পরামর্শে সরকার শূন্যপদে নিয়োগ দিচ্ছেনা এবং নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি করছেনা। সরকারের নতজানু নীতির কারণে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ অনেক বিষয় সুরাহা করা যায়নি। মাদক-জুয়া,অশ্লীলতা, পর্নোগ্রাফি, নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসহ সামাজিক অনাচার মহামারি রূপ ধারণ করেছে। জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে দলীয় বাহিনী এবং পুলিশ দিয়ে হামলা করছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইনে মামলা দিয়ে, হত্যা-গুমের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন পাকাপোক্ত করে চলেছে। দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তারা কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।