
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা জেলা শহরে (গোবিন্দপুর মৌজা) জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রাণাধীণ প্রায় ১ দশমিক ৫ একরের একটি শতবর্ষী পুকুর রক্ষায় হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।
রোববার বিচারপতি মো. এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। পুকুর ভরাট বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানী অন্তে এই রুল দেন। গত রবিবার রাতে গণমাধ্যমে বেলার রাজশাহী কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যালের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞত্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রেস বিজ্ঞত্তিতে উল্লেখ করা হয়, রুলে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (চীফ অ্যাক্সিকিউটিভ অফিসার) মাটি ভরাট থেকে রক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণে তাদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না এবং পুকুরটি রক্ষায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে পুকুরটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই পুকুরে মাটি ভরাট ও ভরাটকৃত স্থানে অডিটোরিয়ামসহ অন্য যেকোন স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বেলার আইনজীবি মিনহাজুল হক চৌধুরী।
প্রেস বিজ্ঞত্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান আধার হিসেবে পুকুরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বন্যা পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা নিরসণে এ পুকুরের অবদান অনস্বীকার্য। অধিকন্তু গাইবান্ধা শহরের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষার্থে এ পুকুরের রয়েছে বিশেষ অবদান। সম্প্রতি জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত দেশের বিদ্যমান আইন এবং আদেশ অমান্য করে পুকুরটি ভরাট করে সেখানে মাল্টিপারপাস বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে পুকুটি ভরাট করে এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে মর্মে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রাচীন এ পুকুর ভরাট হয়ে গেলে উল্লেখিত এলাকার জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হবে মর্মে এলাকাবাসী আশংকা করছে। পুকুর ভরাটের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে এবং পুকুর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন জানান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী ‘বেলা’ বরাবর আইনী সহায়তার জন্য চলতি বছরের ১৮ মার্চ আবেদন করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আটজনকে বিবাদী করে জনস্বার্থে ‘বেলা’ মামলাটি দায়ের করে। বেলার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবাদীরা হচ্ছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তর (বিভাগীয় কার্যালয়) রংপুরের পরিচালক, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা কয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন।
তবে গাইবান্ধা এলাকাবাসির পক্ষে বেলার কাছে আবেদনকারি গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবির হাইকোর্টের রুলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই রুলে শতবর্ষী পুকুর পরিবেশ রক্ষা পাবে।