
স্টাফ রিপোর্টার
সমন্বয়হীনতাই পৌর সভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুল কারন মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীদের দাবী!এমপির পক্ষে-বিপক্ষে কঠোর সমালোচনা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর সভা নির্বাচন পরবর্তী ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীদের সাথে উপজেলা আওয়ামিলীগের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামিলীগ সভাপতি আবু বক্কর প্রধান,।
সভায় পৌর কমিটির ব্যাতীত ৯ টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ সভাপতি সাধারন সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পৌর সভা নির্বাচনে নৌকার পরাজয়ের বিষয়ে মতামত চাওয়া হলে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীরা তাদের অবমুল্যায়ন করার অভিযোগ তুলে বলেন পৌর সভা নির্বাচনের আগে কখনো কোন দিন এ ভাবে তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেনি উপজেলা আওয়ামী লীগ ।যদি তাদের সম্পৃক্ত করে পৃথক দায়িত্ব বিভাজন করা হতো তাহলে হয়তো নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হতো।এছাড়াও মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিলের বিরুদ্ধে করা সমালোচনা করেন ওয়ার্ড ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা রেজানুর রহমান ডিপটি বলেন কেন্দ্র থেকে তিন জনের নামের প্রস্তাব চাওয়া হলে ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ৬ জনের নামের প্রস্তাব প্রেরন করেন।এই কমিটিতে চেইন অব কমান্ডের প্রচুর অভাব রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন পৌর নির্বাচনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ মন্দির মাদ্রাসায় প্রচুর অনুদান প্রদান করায় বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লবের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিলো।তাছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী কাউন্সিলর পদ নিয়ে ব্যাস্ত থাকায় তারা সরাসরি নৌকার পক্ষে কাজ করতে পারেনি।এখানে সমন্বয়ের অভাব ছিলো বলে তিনি দাবী করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল বলেন যারা দলের সাথে গাদ্দারি করেছে তাদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।যারা ঘরের কথা বাইরে বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন নৌকার পক্ষে সর্বোচ্চ কাজ করে ও বিদ্রোহী প্রার্থীর জনসমর্থনের কাছে নৌকার পরাজয় হয়েছে।তার চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিলো না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম বলেন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য।সকলে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে হয়তো নৌকার পরাজয় হতো না।তিনি আরো বলেন দলের দুর্দিনে কাজ করে ও তার কোন বিপদে সাহায্য চেয়ে ও তার পাশে পায় নি উপজেলা আওয়ামিলীগ নেতৃবৃন্দকে।এসময় তিনি এমপির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের করা সমালোচনা করে বলেন এমপি ভোট দিতে এলাকায় এসেছিলেন তারপরও বিভিন্ন ভাবে নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। শুধু তাই নয় প্রয়োজনীয় অর্থ প্রার্থীকে প্রদান করেছেন।এত কিছুর পরে ও মাননীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে যা অতান্ত দুঃখ জনক।
সহ-সভাপতি এনামুল হক মকবুল বলেন সমন্বয়হীন অভাব ছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে।আগামীতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সহ-সভাপতি সাইফুলার রহমান তোতা বলেন শুধু নৌকা পেলেই হবে না, জনপ্রিয়তা থাকতে হবে বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতার কারনেই নৌকার এই পরাজয়।
সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাদশা বলেন তিনি পরিক্ষিত একজন আওয়ামী লীগে নেতা তাদের দুর্দিনে কাছে ডেকে ও পাশে পায় নি উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি সম্পাদককে।তবু ও তিনি নৌকার পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো তা ছিলো দায়সারা ও কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ ।তাদের সাথে প্রার্থী কোন সমন্বয় করেনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ বলেন, তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন।তার মত আন্তরিক ভাবে যদি সবাই দায়িত্ব পালন করতো তবে পৌর নির্বাচনে নৌকার পরাজয় হতো না।
সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম লিপন বলেন,আর কোন নির্বাচনে যেন নৌকার পরাজয় না হয় সেজন্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তাকে প্রাধন্য দিয়ে কাজ করতে হবে।তবে সময় হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করার এসময় হাউজে হা এবং না সিদ্ধান্ত চাওয়া হলে স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী হা সমর্থন করেন তবে অধিকাংশ নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লবকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান।অনেকে আবার সভাস্থল থেকে বের হয়ে যান।
জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ না করে সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হয়ে কাজ করুন। আগামী ইউপি নির্বাচনে যেন আর কোন নৌকা প্রতীক প্রার্থীর পরাজয় না হয়।
স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান বলেন, তিনি একটি মাদ্রাসার সভাপতি ছিলেন।এমপি তাকে বাদ দিয়ে সেকেন্দার মাষ্টার নামে জনৈক জাপা নেতাকে ডিও লেটার দিয়েছেন।টিআর কাবিখার বরাদ্দ তার চাহিদা মত এমপি না দিয়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতা কুখ্যাত কালোবাজারি ফুল মিয়াকে।
তিনি আরো বলেন এমপি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ডিসি এসপি কে ফোন দিয়েছিলেন বলেছিলেন নির্বাচনে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে।শুধু তাই নয় জেলা আওয়ামিলীগ নেতাকে ফোনে বলেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা কতটুকু যুক্তি সংগত! এমপি এ কথাও বলেছেন আপনি জেলা নেতা হয়ে এটা কি আদৌ করতে পারেন!! এতেই প্রতীয়মান হয় যে এমপি নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর জবাব তিনি পাবেন।
কমিটির সমন্বয়হীনতার জন্য তিনি দলীয় সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপনের উদ্দেশে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন সব দায় দায়িত্ব সাধারণ সম্পাদক পালন করেছেন এখানে প্রার্থীর কোন দোষ নেই।