
একটি হাত ও দুটি পা নেই শাহিদার। ৬ ভাই-বোনের মাঝে একমাত্র শাহিদাই ছিল প্রতিবন্ধী। মাত্র একটি হাত সচল হলেও তিনটি আঙ্গল ছাড়া বাকিগুলো অকেজো। তবুও থেমে নেই এই শাহিদা। তার অদম্য ইচ্ছা আর পরিবারের সহযোগিতায় সফলতার সাথে যশোরের এমএম কলেজ থেকে শেষ করেন মাষ্টার্স। শাহিদার স্বপ্ন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একজন প্রতিবন্ধীর কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প তাঁকে শোনাবেন।’
এই শাহিদা ছোট বেলা যখন স্কুলে ভর্তি হয়েছে তখন ক্লাসের স্যারেরা তাক নিয়ে খুব ভয়ে ছিলেন যে, কিভাব ক্লাস করবেন তিনি। শোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মুদি দোকানি মো. রফিউদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে ৪র্থ শাহিদা।
১৯৯১ সালে শাহিদার জন্ম হলে গোটা পরিবারে যেন আঁধার নেমে আসে। কারণ মেয়েটির একটি হাত ও দুটি পা নেই। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে অশ্রম্নসিক্ত হয়ে পড়েন শাহিদার মা জোহরা বেগম।
কখনো মা-বাবা, কখনো ভাইবোনের কোলে চড়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু হয় শাহিদার। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কোনো কিছুই তাকে স্কুল থেকে দূরে রাখতে পারেনি। পড়াশোনার প্রতি আন্তরিক ও অদম্য আগ্রহের কারণে শিক্ষকরাও পরে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠেন।
এভাবেই সেন্টলুইস হাইস্কুল থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও ২০০৯ এ শিমুলিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
মা বললেন ‘পাড়া-প্রতিবেশীরা বলত, পাপ করেছি, তারই ফল পেয়েছি। ঘিন্নায় মানুষ কথা বলত না।’ শাহিদাকে বলতা, ‘তুই কি করতি হইছিস্? তোরে দিয়ে তো কিছ্ছু হবে না। আমাগের হলি তো মাইরে ফেলতাম!’ এই ছিল শাহিদার শৈশব!
শাহিদা জানান, এরপর বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের শহিদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হন। প্রতিদিন একশ টাকায় একটি ভ্যান ভাড়া করে দেন বাবা। সেই ভ্যানে কলেজে যাতায়াত করে বিএ পাস করেন। এরপর যশোর এমএম কলেজ থেকে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন।