
অবশেষে নতুন-পুরাতন বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া সব সহকারী শিক্ষক এখন থেকে ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়কে সব শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতেও বলা হয়েছে। সম্প্রতি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ স্মারকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১১ অক্টোবর অর্থসচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে চিঠিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়।
কিন্তু অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে।
২০১৯ সালের বিধিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হয়। তবে, এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে অনেক শিক্ষক এইচএসসি নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা জারির পরে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা রহিত হবে। রহিতকরণ সত্ত্বেও ওই বিধিমালার অধীন যেসব কার্যক্রম নিষ্পন্ন হয়েছে তা এ বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।
এজন্য ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯১’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক।
অর্থ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সব শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই আগের বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সকল সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় মনে করে।