
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের পূর্ব গোয়ালাপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধা শান্তি রাণী’র(৭০) পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ-আল-মামুন খাদ্য সামগ্রী সহ শাড়ী ও কম্বল নিয়ে পৌছে যান ওই বৃদ্ধার বাড়িতে।
অন্যের জমিতে অপরিসর বাড়িটির কাঁচা মাটির উঠোন। টিনের ঘর। বাঁশের খুঁটি মাথায় তুলে রেখেছেন টিনের চাল। এমন সময় ইউএনও আসার খবর পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন শান্তি রাণী। খাদ্য সামগ্রী,নতুন শাড়ী ও কম্বল হাতে তুলে দিতেই বৃদ্ধা শান্তি রাণীর দুই চোখের পানি ছেড়ে দিলেন। প্রার্থনা করলেন ভেজা চোখে। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মী, এলাকাবাসী ও ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ আপ্লুত হয়ে পড়েন সবাই।
জানতে চাইলে ইউএনও আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শান্তি রাণীর পাশে দাঁড়ানেরা যেন কেউ নেই এমন সংবাদ দেখার পরে তিনি আজ শান্তি রাণীর বাসায় খাদ্য সামগ্রী সহ নতুন শাড়ীও কম্বল নিয়ে আসেন। তবে শান্তি রাণীর নিজস্ব জায়গা- জমি না থাকায় তাকে সরকারি খাস জমিতে একটি ঘর তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এ ছাড়াও জীবিকাহ নির্বাহ করতে আর যেন অসুবিধে না হয় তার জন্য তাকে বিধবা ভার্তা কার্ড সহ অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কুঁড়ি বছর আগে শান্তি রাণী স্বামী মারা যাওয়ার পরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে লেখা পড়া শেখান। বড় হয়ে ছেলে বিয়ে করে বৃদ্ধা মাকে ছেড়ে চলে যায় শ্বশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে। এ দিকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শান্তি রাণীকে বয়স্ক দেখে কাজে নেন না কেউ।অবশেষে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তাঁর পাশে দাঁড়ান উপজেলা প্রশাসন।