
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঘুষ না দেয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকদের ঈদ বেতন-বোনাস বিল প্রদানে গড়িমসি করায় উত্তেজিত শিক্ষক কর্তৃক হিসাব সহকারী হ্যাপি লাঞ্চিত হয়েছেন। ২৬ জুলাই রবিবার সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চলাকালীন এঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বোনাস প্রদানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসেব সহকারী হ্যাপি ঘুষ দাবী করে বসে। প্রত্যাশিত ঘুষের অর্থ প্রদান না করায় তিনি বিল ছাড় করতে নানা টালবাহানাসহ গড়িমসির আশ্রয় নেন। তার এমন ভূমিকায় ভূক্তভোগী শিক্ষক মহলের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে আশাদুল ইসলাম হ্যাপি তর্কে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষকদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে হ্যাপি বলেন, শিক্ষকদের বেতন বোনাসের বিষযটি অফিসে কর্মরত আমরা তিনজন বরাবরই দেখে থাকি। তবে যে শিক্ষকদের সাথে মতপার্থক্যের সৃষ্টি আমি তাদের বিল দেখিনা। অথচ শিক্ষক সিসাম, মিজান, তাজ উদ্দীন ও বাবুসহ অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষক অহেতুক শারীরিক ভাবে আমাকে গালমন্দ ও লাঞ্চিত ছাড়াও দেখে নেয়ার নানা হুমকি প্রদর্শন করেন। হ্যাপি জানান উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে যাদের বিল-বোনাস দেখবার কথা তারা না দেখায় অযথা আমাকে দোষারোপ করা হয়েছে।প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি জোর দাবী জানান।
আশাদুল ইসলাম হ্যাপী লাঞ্চিতের বিষয়টি জানতে চেয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বললে বিষয়টি তারা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বসেন। শিক্ষকরা বলেন, তাকে শারীরিক আঘাত বা লাঞ্চিত করার আদৌ কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে অবৈধ পন্থায় তার ঘুষ চাওয়া-পাওয়ার স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক মতপার্থক্যের ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, ঘুষ চাইবার বিষয়টি ধামাচাপাসহ অনৈতিক সুবিধা আদায়ে তিনি সাংবাদিকদের পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালামের নিকট বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা জানতে চাইলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি অফিসে আসা পর্যন্ত শিক্ষকদের অপেক্ষা করা উচিত ছিল। শিক্ষকদের বেতন বিল বোনাস অফিসে কর্মরত তিনজনই বরাবরই দেখে থাকেন। তিনি বলেন, আমার জানামতে শিক্ষকদের বিল সীটটি এ্যাকাউন্ট অফিস পাশ পূর্বক ছাড় দিয়েছেন। লাঞ্চিত করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন।বিষয়টির সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার লক্ষে শিক্ষকদের নিয়ে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান।