
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ‘ভিআইপিদের’ চিকিৎসা নিয়ে বিবিসি বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংস্থাটির লন্ডনের সদর দফতরের বাংলা বিভাগের সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে সরকার।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা বলেছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা না বলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা একদমই ঠিক নয়।
“ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমরা প্রতিবাদ দিয়েছিলাম, এরপরেও তারা প্রতিবেদনটি রিপিট করেছে। যার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি করেছেন তিনি অথোরিটি না।”
বিবিসি বাংলা তাদের অনলাইন সংস্করণে গত ২২ এপ্রিল ‘করোনাভাইরাস: ভিআইপিদের চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটি করেছিল বিবিসি বাংলা।
সরকার বলছে, “অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নন।”
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অসত্য তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ বা ভুল ধরিয়ে দেয়ার পরও তা সংশোধনে বিলম্ব করা যে আইনের সুস্পষ্ট লংঘন, চিঠিতে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
“নীতিগত কারণেই বিবিসিকে পাঠানো প্রতিবাদপত্রটি তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশ করবে না। বিবিসি বাংলাসহ সকল গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই করে তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের জন্যও চিঠিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।”
প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতিবাদ পেয়ে বিবিসি বাংলা তাদের অনলাইনে ‘করোনায় ভিআইপিদের জন্য পৃথক হাসপাতাল: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অস্বীকার’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি আবার প্রকাশ করে।
পরদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানান। এরপর ‘করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে ভিআইপিদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা হয়নি, বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী’ শিরোনামে সংশোধিত সংবাদ প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা।
বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনকে সোর্স করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনায় মাতেন অনেকে।
পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ভিআইপিদের চিকিৎসায় আলাদা কোনো হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার বলেন, এজন্য একটি প্রতিবাদপত্র দেয়া হয়েছে। লন্ডনের অফিসে এটি পাঠানো হয়েছে, তবে লোকাল অফিসকেও আমরা জানিয়েছি। আমরা চিঠিতে বলেছি, বিবিসি একটি বিশ্ব স্বীকৃত মাধ্যম। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই কোনো নিউজ করা উচিত। আমাদের উদ্বেগ আমরা প্রকাশ করেছি’