
তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনকালে আলাদা কোনো পাসের প্রয়োজন নেই ।
আজ বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নেতাদের কাছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছুটির সময়ে সেনাবাহিনী নামার মধ্যে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে আলাদা কোনো পাস বা পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে কিনা- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনি করি সাংবাদিকদের যে কার্ড আছে সেটি যথেষ্ট। যদি সাংবাদিকদের মিডিয়া হাউজ থেকে বলে দেওয়া হয় তিনি অন-ডিউটি তাহলে সেটিই যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা কার্ড দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি না। একজন সাংবাদিক যখন অন-ডিউটি তখন তাকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
ড. হাছান বলেন, এই দুর্যোগ সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় সেজন্য তারাও কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। আমরা বলেছিলাম সাংবাদিকদের পার্সোনাল প্রটেকশনের জন্য আমরা কিছু পিপিই দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ছুটি ও গণপরিবহন বন্ধ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষের চলাচল বন্ধ হলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ হয়। বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এ ব্যবস্থা নিয়ে অনেকটা সফল হয়েছে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা আশা করবো প্রধানমন্ত্রীর উদারতা ও মহানুভতায় যে নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বিএনপি করে আসছিল তা থেকে বের হয়ে আসছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তিতে করোনা ভাইরাস থেকে দেশ মুক্তি পাবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ মন্তব্যের জেরে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এ ধরনের দায়িত্বহীন কথা তিনি আদৌ বলেছেন কি না, সেটি আমি জানি না, যদি তিনি বলে থাকেন আশা করবো এ ধরনের দায়িত্বহীন কথা কেউ বলবে না।
নভেল করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি এবং ২৪ মার্চ হতে সশস্ত্র বাহিনী নামার ঘোষণা দেয় সরকার।
এই সময়ে গণপরিবহন বন্ধ, জনসমাগম নিষিদ্ধসহ প্রশাসনের বেশকিছু কাজে সহযোগিতা করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।