
গাড়িতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পরার ঘটনায় আরোহী তিন শিশুসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ হয়েছেন আরও এক নারী। বুধবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরের ক্যাম্প হিলের রাভেন স্ট্রিটে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুদের সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িতে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। জানা যায়নি হতাহতদের পরিচয়ও। তবে এটিকে নাশকতার ঘটনা বলে সন্দেহ করছে স্থানীয় পুলিশ।
বিবিসি বলছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে সাড়ে ৮টার (বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৩টা) দিকে একটি জরুরি কল পায় পুলিশ। ওই কলে রাস্তায় একটি এসইউভি গাড়িতে আগুন লেগেছে বলে জানানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গাড়িতে থাকা তিন শিশু ও এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শিশুদের সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে বলে জানা গেছে। আগুনে নিহত পুরুষের সঙ্গে তাদের কি সম্পর্ক তা জানা যায়নি। জানা যায়নি আহত নারীর পরিচয়ও।
বিবিসি জানায়, গাড়িটিতে নাশকতামূলকভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ। পুলিশ পরিদর্শক মার্ক থম্পসন বলেন, ‘দৃশ্যটি ভয়াবহ ছিল। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল।’
এ ঘটনায় এক পথচারীও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই পথচারী গাড়ির আরোহীদের বাঁচানোর জন্য ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তার মুখের কিছু অংশ পুড়ে গেছে বলে কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। আহত ওই পথচারীকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্যাম্প হিলের ওই সড়কের প্রত্যক্ষদর্শীরা অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, তারা একজন নারীকে গাড়িটি থেকে লাফ দিয়ে বের হতে দেখেন, তার শরীরে তখন আগুন জ্বলছিল। ওই নারী তখন চিৎকার করে বলছিলো, ‘ওই লোক আমার গায়ে পেট্রল ঢেলে দিয়েছে।’ তাই বলে কুইন্সল্যান্ডের এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিকে এখনই পারিবারিক সহিংসতা হিসাবে চিহ্নিত করতে চাইছে না পুলিশ। ফলে এ নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।