
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ড ও এর বাইরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে।
শনিবার পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭২২। সরকারি তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আরও ৩,৩৯৯ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৪,৫৪৬ জন। আজ রবিবার তা গিয়ে দাঁড়ায় ৮০৩-এ। এর মধ্যে শুধুমাত্র হুবেই প্রদেশে ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। এক মাস আগে এক ডাক্তার এই মরণ ভাইরাসের হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশকে সতর্ক করলেও শাসক দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, এই অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে চীনে।
করোনাভাইরাস মৃতের সংখ্যা ২০০২ সালে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (সিভিয়ার অ্যাকুইটি রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাসকেও ছাড়িয়ে গেল। সে সময় সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের ২৪টিরও বেশি দেশে মোট ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়। আর এতে আক্রান্ত হয় ৮ হাজার ৯৮ জন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের আক্রান্তের অনেক ঘটনায় হয়তো সামনে আসছে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন থেকে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো চীনগামী ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।