
নারীকণ্ঠের জাদুতে সম্মোহিত করে টার্গেট ব্যক্তিদের কাছে অর্থ ধারের অভিনব কায়দায় প্রতারক মেহেদী হাসান। তার পেশা মাদক ব্যবসা ও প্রতারণা। নেশা ইয়াবা সেবন। ইয়াবা ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকেই মানুষকে তার প্রতারণার জালে আটকে ফায়দা লুটে আসছিল।
অবিকল নারীকণ্ঠে কথা বলার অদ্ভুত দক্ষতা রয়েছে মেহেদী হাসানের। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি কিংবা তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে ফোন করে ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছিল সে।
এ সময় বিষয়টি গোপন রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝান। তার কথায় নারী মনে করে কেউ কেউ মেহেদী হাসানের বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান আবার কেউ কেউ সাবধান হন।
এই প্রতারক মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৬ জানুয়ারি বিকালে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোন টিমের সদস্যরা মেহেদী হাসানকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। পরে তার মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে প্রতারণার কৌশল ও প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিদের নামধাম।
নারী কণ্ঠে ফোন করে প্রতারণা করার কারণে অনেক সরকারি কর্মকর্তার সংসারে স্ত্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থেকে দাম্পত্য কলহ পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। দিন কয়েক আগে পুলিশের একটি কাজের দরপত্র আহ্বান করে একটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ল্যান্ডফোন নম্বর দেওয়া ছিল।
মেহেদী হাসান নিজের কণ্ঠ পরিবর্তন করে ওই ল্যান্ডফোনে কল করলে ধরেন ওই পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী। তখন মেহেদী হাসান নিজেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে টাকা চান। এতে ব্যক্তিগত সহকারীর সন্দেহ হয়। বিষয়টি তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান।
এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে নারী কণ্ঠটি আসলে কোনো নারীর নয়; পুরুষের। সে কথার জাদুতে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
শুরুতে নারী কণ্ঠে বন্ধুবান্ধবদের ফোন দিয়ে মোবাইল ফোন রিচার্জের টাকা নিত। কিন্তু এই টাকায় ইয়াবা সেবনের অর্থের জোগান আসছিল না। সে কারণে নারী কন্ঠের প্রতারণা শুরু করে মেহেদী হাসান।