
দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) এর কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, একসময় দুদককে নিয়ে মানুষ ব্যঙ্গ করত। কিন্তু সময়টা একখন ইউটার্ণ নিয়েছে। এখন ব্যঙ্গ করার সুযোগ নেই। আমরা মানুষের ভীতির কারণ না হয়ে প্রীতির কারণ হতে চাই।
আজ শনিবার দুদক ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনকালে দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন।
দুদক কমিশনার বলেন, অবৈধ কোন কিছুর কারণে অস্বাভাবিক কিছু তৈরি হয়। হঠাৎ করে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ এমনি এমনি হয় না। এর পেছনে অবশ্যই দুর্নীতি রয়েছে। আমরা সবাই মুখে অনেক সুন্দর কথা বলি কিন্তু বাস্তবে তা করি না। আমাদের মনস্তাত্বিক বিষয় এমন হয়েছে যে আমরা স্বাভাবিকভাবে কিছু চাই না। সবাই প্রথমে একলাফে বড়লোক ও অর্থশালী হতে চাই। মানুষ কেন যেন স্বাভাবিক ও সৎভাবে বাঁচতে চাই না। এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
দুদকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান আরো বলেন, মনে রাখবেন আপনারা যাতে নিজেরা দুর্নীতিগ্রস্থ না হন। আমাদের তদন্তে ও কাজে পদ্ধতিগত কোন ভুল করা যাবে না। এতে আমাদের কনভিকশন বাড়বে ও দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। আমাদের দুর্নীতি দমন একটি আন্দোলন। আন্দোলন একা একা করা যায় না, সকলে মিলে করতে হয়। পুলিশ আমাদের পাশে থাকলে নিজেদের আরো শক্তিশালী মনে হয়।
এই প্রশিক্ষণের ফলে দুদকের অনেক লাভ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে একসাথে করলে চলার শক্তি বাড়ে। একা একা কিছু করা যায় না। চাকরি জীবনে ট্রেনিং করা হয় এ্যাকশনের জন্য। দুদকে ২৪শ জনবল অনমোদিত থাকলে বর্তমানে কাজ করছে প্রায় ১১শ লোক। আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে। তবে যারা রয়েছে তারা সবাই সমান পারদর্শি না। এজন্য ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর জন্য ট্রেনিং ও ইকুপমেন্টের দরকার।