
প্রথমবার নৈহাটি উৎসবের উদ্বোধন করতে এসে ফের একবার এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ইস্যুতে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন জীবিত থাকতে কোনও মানুষকে দেশ ছাড়তে হবে না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি রেল মাঠে নবম বর্ষ নৈহাটি উৎসবের উদ্বোধন করতে এসে এভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।
এদিন উৎসবের উদ্বোধনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, প্রাক্তন ব্যারাকপুরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, নির্মল ঘোষ, মন্ত্রী তাপস রায়, শীল ভদ্র দত্ত সহ বারাকপুর মহকুমার বিভিন্ন পুরসভার পুরপ্রধানরা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুজবে কান দেবেন না। রাজ্যের একজন বাসিন্দাকেও বাইরে যেতে হবে না। মতুয়া সম্প্রদায়কে ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি নেতারা। বিজেপি বলছে পশ্চিমবঙ্গে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করবে। কিন্তু ক্ষমতায় কে আছে এই রাজ্যে? আমি জীবন দিতে রাজি আছি তবে বিজেপিকে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করতে দেব না। কোনদিনও না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই বিরোধিতা করেছেন। কেউ সাধারণ মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না এই হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আমরা আছি। অসমে বিজেপি এসব করেছে কারণ ওঁরা ওখানে ক্ষমতায় আছে”।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ইস্যুতে দেশজুড়ে পড়ুয়াদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “যখন তাঁরা ভোট দিয়ে সরকার গঠন করছে তখন সব ঠিক থাকলে প্রতিবাদে সমস্যা কোথায়”।
এদিনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইনটা আমি ভাল বুঝি, সংবিধান আমি ভাল বুঝি। আমাকে আইন বোঝাতে হবে না। সাতবার সাংসদ হয়েছি, বহুবার মন্ত্রীত্ব সামলেছি। তাই আমাকে ভুল বুঝিয়ে লাভ নেই। আমার বাংলায় মানুষের ক্ষতি হবে এরকম কিছু হতে দেব না। এনপিআর বাংলায় করব না।
মানুষের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে আরও বলেন, এত বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটে আমাদের ভোটে যে এত সরকার তৈরি হয়েছে, এত প্রধান মন্ত্রী তৈরি হয়েছেন, তারপর আবার নতুন করে কিসের নাগরিকত্ব নিতে হবে। আমাদের সকলের ভোটে সরকার তৈরি হয় কারন আমরা সবাই নাগরিক। তাই নতুন করে নাগরিক হবার জন্য আবার কিসের সার্টিফিকেট লাগবে? যারা দেশে ভোট দিয়ে সরকার তৈরি করেন তারা সবাই নাগরিক। সূত্র- কলকাতা২৪x৭।