
ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি ইস্যুতে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিনে রাজ্যে বেড়ে চলা হিংসার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর নিয়েও এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ।
নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই অশান্ত পশ্চিমবঙ্গ। তুলনামূলকভাবে মঙ্গলবার খানিকটা হলেও পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আন্দোলনের নামে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
বাস, ট্রেনে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ‘ভাঙচুরের রাজনীতি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমদানি করা। তিনিই তো ভাঙচুর করতে শিখিয়েছিলেন। চারদিন ধরে ভাঙচুর চলল, ব্যবস্থা নিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
একইসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল সংসদে পাশ হওয়ার সময় তৃণমূল সাংসদদের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সাংসদদের অন্ধকারে রেখে নাগরিকত্ব বিল পেশ হয় বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার সেই দাবি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের পালটা দাবি,‘সংসদে কোন দিন সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল পেশ হবে এক সপ্তাহ আগে থেকেই তা সকলে জানতেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমেও তা নিয়ে আলোচনা চলে। সংসদে নাগরিকত্ব বিল পেশের সময় তৃণমূল সাংসদরা অনুপস্থিত ছিলেন।’ বিল পেশের সময় তৃণমূল সাংসদদের অনুপস্থিতি নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ।
এরই পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের সমর্থন কমছে বলেও মঙ্গলবার দাবি করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি , ‘উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দিতেই কেন্দ্রের নয়া আইন। অধিকাংশ মানুষই তা বুঝতে পেরেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলে এখন ভিড় কমেছে।’
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করে দিলীপ ঘোষের আরও কটাক্ষ, ‘হিটলারের মতো মনোভাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হিটলারের কায়দায় শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন। আমরা একজন শাড়ী পরা হিটলার দেখলাম। দেশদ্রোহীতার মনোভাব তৃণমূলনেত্রীর।’ সূত্র- কলকাতা ২৪x৭।