
গাইবান্ধা জেলার নবগঠিত পলাশবাড়ী পৌরসভার পৌর কমিটির সদস্য আব্দুল কদ্দুস সরকারের নানা-অনিয়ম কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। দিনের পর দিন বিভিন্ন প্রকার মামলা-হামলা শিকার এলাকাবাসী একত্র হয়ে বলছে আর মেনে নেওয়া যায়না এবং কিভাবে তার অবৈধ কর্মকান্ড গুলো প্রতিহত করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এখনই। এই অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টায় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে সরকার পাম্পের সামনে এক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিটিং-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামীতে ডিসি, এসপি, পিবিআই ও পলাশবাড়ী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিণমারী ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদের বরাদ্দকৃত টিআর এর দু’টি সরকারি বরাদ্দের মধ্যে একটি বরাদ্দের ৬৭,৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন উক্ত ইউপি মেম্বার। এমনকি বয়স্ক, বিধবার কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এরপরও থেমে থাকেননি তিনি, নিজ পুকুর বন্ধক রেখে প্রতিবেশী নওশা মিয়ার এক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে দু’টি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরও করেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বাদাম ব্যবসায়ী আনিস মিয়ার বিরুদ্ধে ২টি মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা করেন।
উক্ত গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মেহেদুল ইসলাম জানান, আমার শাশুড়ি ছকিনা বেগম এর বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে ছয় হাজার টাকা দেই। কার্ড না করে দেওয়ায় উক্ত টাকা ফেরৎ চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করে আমার বামহাতের কবজি ভেঙ্গে দেয়। এবিষয়ে একটি মামলা দায়ের করি যাহা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রতিবেশী হামিদ মিয়া বলেন, আব্দুল কদ্দস মেম্বারের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটির এক পর্যায়ে আমার ছেলে বাবলু মিয়া (১২) এর মাথায় স্বজোরে আঘাত করলে তার মৃতু্ হয়। আমি এবিষয়ে একটি হত্যা একটি মামলা দায়ের করি। কিন্তু বিবাদী পরবর্তীতে উক্ত হত্যা মামলার সাক্ষীদের নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং আপস-মিমাংসার কথা বলে একতরফা মামলাটি নিষ্পত্তি করে। এমনকি ছেলে হারানোর শোকে আমি নিজ বসতভিটা আড়াই শতাংশ বিক্রি করলেও কৌশলে মেম্বার দলিলে ৪ শতাংশ উল্লেখ করে নেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সদর কমিটির যুগ্ম ও ৩নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক বলেন,
বয়স্কভাতা ও মসজিদ এর টাকা অাত্মসাৎ করার প্রতিবাদের কারণে আমার সাথে শত্রুতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ছিনতাই মামলাসহ তিনটি মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেন।
ভূক্তভোগি ইউনুস আলী বলেন, পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে ২৩ শতাংশ জমি দলিল করে নেন। পরবর্তীতে বাকি টাকা এবং ঐ জমির ফসল দেওয়ার কথা থাকলেও তা আর দেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থাবীয়ভাবে বৈঠক হলেও কোনো শুরাহ করেননি। উক্ত পাওনা টাকার বিষয়ে গত ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মেম্বার কদ্দুসের বাড়ীতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল উক্ত ইউপি সদস্যের এহেন অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে লক্ষে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করবেন বলে জানা যায়