
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ১৩ ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় ম্যাক্রোঁ লেখেন, নিহত এই ১৩ সেনানীর একটিই লক্ষ্য ছিল: আমাদের রক্ষা করা। এ বিয়োগান্তক ঘটনায় আমি তাদের স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাই।
২০১৩ সালে চরপন্থিরা মালির উত্তরাঞ্চলের বিশাল অংশ ছিনিয়ে নিলে ফ্রান্স সেখানে নিজেদের বেশ কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করে।
পরবর্তীতে মালির সেনাবাহিনী ওই অঞ্চল পুনর্দখল করলেও, এখনও সেখানে চরম্পন্থিদের সক্রিয়তা ও অনিরাপত্তা রয়েছে। প্রায়ই তারা নানা রকম হামলা ও সহিংসতা চালায়। বর্তমানে মালির পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এসব সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
চরম্পন্থিদের বিরুদ্ধে মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও চাদকে সহায়তার জন্য ফ্রান্স ওই অঞ্চলে সাড়ে ৪ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে বোমা বিস্ফোরণে ব্রিগেডিয়ার রোঁনা প্যাঁত্যু নামে আরও এক ফরাসি সেনা নিহত হন। সে সময় তার গাড়ির কাছে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়।
পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিসংগঠন আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের শক্ত ঘাঁটি আছে। এসব ঘাঁটি থেকেই মূলত সাহেল নামে পরিচিত উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর কিছু অংশে জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। ২০১৩ সালে ফরাসি বাহিনী এ অঞ্চলের সংঘাতে যুক্ত হয়। এই ঘটনা দেশটির সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বলে মন্তব্য করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তর।
২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মালিতে মোট ৩৮ ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।