
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলের গাড়ি থেকে গুলি, বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ তার গাড়িচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ।
শুক্রবার গভীর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে এই মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বিষয়টি জানিয়েছেন।
শওকত আজিজ রাসেল দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘পারটেক্স গ্রুপ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাশেমের সন্তান।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, আজিজ ওই গাড়িতে থাকলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে গাড়ি থেকে তার স্ত্রী (৪০) ও ছেলেকে (১৭) আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে রাসেলের স্ত্রী ও ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ওই গাড়ি থেকে একটি প্যাকেটে থাকা ২৮ রাউন্ড গুলি, ১ হাজার ২০০ ইয়াবা, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ার ও ২২ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনকারী একটি সাদা রঙের পাজারো জিপটি জব্দ করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সকালে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এসে শওকত আজিজ রাসেলের অবৈধ অস্ত্রটি উদ্ধারে পুলিশকে সহায়তা করবে এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছেলের স্ত্রী ও নাতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। শওকত আজিজ রাসেল ও গাড়িচালক সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে। রাসেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে পুলিশ সুপারকে ঢাকার বাসায় নামিয়ে দিয়ে দেহরক্ষী নাজমুল রাজধানী ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন। পথে মগবাজার ফ্লাইওভারে যানজটে পড়েন। সেখানে গাড়ির হর্ন বাজালে সামনের গাড়ি থেকে একজন নেমে এসে নাজমুলের গাড়ির কাঁচে জোরে আঘাত করতে থাকেন। জানালার কাঁচ নামালে নাজমুলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে নিজের পরিচয় দেয় ‘আমি পারটেক্স রাসেল’। তারপর নাজমুল পুলিশ সদস্য বুঝতে পেরে তাকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তার নির্দেশে রাসেলের পিছু নেয় পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাসেলের গাড়ি আটকায় পুলিশ।
গাড়ির চালক সুমনকে আটক করা হয়। তবে শওকত আজিজ রাসেল পালিয়ে যান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী-পুত্রকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে ওই গাড়ি থেকে পিস্তলের ২৮ রাউন্ড গুলি, ১২শ’ পিস ইয়াবা, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ২৮ ক্যান বিয়ার, নগদ ২২ হাজার ৩৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাদা রঙের একটি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ: ১৩-৮৩৭৫) পুলিশের জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় শনিবার সকালেই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে আসেন পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাশেম, পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমএ হাশেমের স্ত্রী সুলতানা হাশেম ও এমডি আজিজ আল মাহমুদ। পরে গাড়িতে থাকা শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে তাদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়।