
দুর্নীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ১ অক্টোবর হাজার হাজার ইরাকি রাজধানী বাগদাদসহ অন্যান্য শহরে রাস্তায় নেমে আসে।
অব্যাহত রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে সায় দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। তবে প্রতিবেশী ইরান তাকে পদত্যাগ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মিডলইস্ট আই জানায়, পার্লামেন্ট তার উত্তরসূরি নির্বাচনে একমত হতে পারলে আবদুল মাহদি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন ইরাকি প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ।
তবে বিশেষ এক প্রতিবেদনে রয়টার্স দাবি করেছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে চাইলেও বাধ সেধেছে ইরান। তারা চায় না আবদুল মাহদি পদত্যাগ করুন।
চলতি সপ্তাহে জনপ্রিয় শিয়া ধর্মীয় নেতা মোকতাদা আল-সদর বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেছেন। তিনি আবদুল মাহদিকে হঠাতে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাদি আল আমিরির কাছে সহযোগিতাও চান। তার নেতৃত্বাধীন ইরানি মিলিশিয়া সমর্থিত জোট পার্লামেন্টে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।
কিন্তু গত বুধবার এক গোপন বৈঠকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এলিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানি এতে হস্তক্ষেপ করেন। আবদুল মাহদিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমিরি এবং তার মিলিশিয়া নেতাদেরকে সোলেইমানি বলেছেন বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
এ বিষয়ে আমিরি এবং মোকতাদা আল-সদরের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। তবে বুধবারের বৈঠকে যে সোলেইমানি উপস্থিত ছিলেন তা একজন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, ‘উপদেশ দেওয়ার জন্য’ তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
দুর্নীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ১ অক্টোবর হাজার হাজার ইরাকি রাজধানী বাগদাদসহ অন্যান্য শহরে রাস্তায় নেমে আসে। প্রথম দফায় চলা বিক্ষোভে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন আরও শতাধিক।