
গাইবান্ধার এই প্রথম পলাশবাড়ী পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ৮ইউনিয়ন এলাকায় এবার ৬১ মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভৌগলিক এলাকার বেশির ভাগ মন্ডপ ঘুরে দেখা যায় প্রায় মাসব্যাপি আগে থেকে বাঁশ-কাঠ, খড়-সুতলি, আর কাদামাটি দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। তা এক পর্যায় সম্পন্ন হয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রতিমা তৈরির কাজে লিপ্ত শিল্পীদের প্রস্থান ঘটে। অভিষেক ঘটে ঠাকুর বা পুরোহিত কিংবা পূজারির। মন্ডপকে ঘিরে তৈরী করা হয়েছে ছোট-বড় প্যান্ডেল।
নানা রংবে-রঙের বাহারি বস্ত্র পরিহিত আলো ঝলমল ডেকোরেশনের আবর্তে প্রশাসনিক এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সার্বিক নিরাপদ-নির্বিঘœ নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। নামীদামী পোশাক-পরিচ্ছদের বেষ্টনিতে প্রতিমা সমূহ করা হয়েছে আবৃত। প্রতিমা স্থাপনের আসন সাজানো হয়েছে মনোরম দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে। ৪ অক্টোবর ষষ্ঠমীর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার উৎসব শুরু করা হয়। এদিন বিশ্ব শান্তির সার্বিক কল্যাণে সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজায় দেবীকে আসনে উপবেশন করা হবে বলে জানায় স্ব-স্ব মন্ডপের পূজার আয়োজকরা।
প্রতিমা তৈরির শিল্পীর কারিগর খোকন চন্দ্র মালাকার জানায় পলাশবাড়ীর প্রায় মন্ডপগুলোয় অত্যন্ত নিপুন ও নিখুঁত ভাবে প্রতিমাগুলো তৈরী করা হয়েছে। রং-তুলির বর্ণিল রংয়ের আঁচড় শেষে বস্ত্র পরিহিত দেবীর গলা ও হাতে পড়ানো হয়েছে গহনা। প্রতিমা শিল্পী সুজিত মালাকার জানান মাসব্যাপি সামগ্রিক কাজ শেষে পূজা-অর্চনা শুরু হয়েছে।
নবগঠিত পলাশবাড়ী পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৬১ মন্ডপে আনন্দ ঘন উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ উপজেলা শাখার সভাপতি নির্মল মিত্র ও সাধারণ সম্পাদক দিলিপ চন্দ্র সাহা জানান, সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে দূর্গাপূজা।সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে। সভাপতি ও সম্পাদক পূজা চলাকালীন পৌরসভাসহ উপজেলার মন্ডপ গুলোয় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকসহ সার্বনিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. মেজবাউল হোসেন জানান,সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে উদযাপিত হয় সেজন্য প্রতিটি পূজামন্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়োজিত রয়েছে।
থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের মত এবছরও শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের সকল ক্রিয়াকর্ম যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় পুলিশের প থেকে সবধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব এবং আনসার ভিডিপি সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা সার্বনিক নিয়োজিত থাকবে।
এবারে পলাশবাড়ী পৌর শহরসহ পৌর এলাকায় ৯টি পূজা মন্ডপে, কিশোরগাড়ী ইউনিয়যনে ৬, হোসেনপুরে ৮, বরিশালে ৭, মহদীপুরে ১২, বেতকাপায় ২, পবনাপুরে ৬, মনোহরপুরে ৭ এবং হরিনাথপুর ইউনিয়নে ৪টিসহ মোট ৬১ মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।