
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গত চারদিনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির হাসপাতালের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। গত ২৪ ঘণ্টায় নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘অজ্ঞাত স্নাইপাররা’ বাগদাদে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি বিক্ষোভকারীদের ‘বৈধ দাবি-দাওয়া’ মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বেকারত্বের উচ্চ হার, সরকারি পরিষেবার শোচনীয় অবস্থা এবং অব্যাহত দুর্নীতির কারণে গত মঙ্গলবার দেশটিতে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় এই বিক্ষোভকে মাহদির ভঙ্গুর সরকারের জন্য প্রথমবারের মতো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের আহ্বান সত্ত্বেও দেশটির বড় শহরগুলোতে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হাজার হাজার নাগরিক। রাজধানী বাগদাদসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কারফিউ জারি এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেও বিক্ষোভ ঠেকানো যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বিক্ষোভকারীরা বাগদাদের তাহরির স্কয়ারের দিকে যেতে চাইলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে কয়েকজনের মাথা এবং পেটে গুলি লাগে।
হাসপাতাল এবং নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কেবল শুক্রবারই ১০ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সরকারি সেবা না পাওয়ার প্রতিবাদে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইরাকের রাজপথে বিক্ষোভ করছে সরকারবিরোধীরা। নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামেন এসব বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।