
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো অসুস্থ রোগীকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে নার্সের বিকল্প নেই। নার্সিং পেশা সবচেয়ে সম্মানের। আগে এই পেশাটি অবহেলিত ছিল কিন্তু এখন এর মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবাকে আরও উন্নত করতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলে জানান তিনি।
আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরে তেতুইবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে আমরা একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করে দেব। সে পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি। ১৯৯৬ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার পর ২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় এসে তারা এই সেবা বন্ধ করে দেয়। এর যুক্তি হিসেবে তারা বলে, কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ সেবা নিয়ে নৌকা মার্কায় নাকি ভোট দেবে।’
আগে দেশে নার্সিংটা সম্পূর্ণ অবহেলিত ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নার্সিংয়ের মতো একটি সেবামূলক পেশা- যে পেশাটাকে আমি মনে করি সবচেয়ে সম্মানজনক পেশার একটি। একজন অসুস্থ মানুষ, তার পাশে দাঁড়ানো- এর চেয়ে বড় সেবা আর কী হতে পারে। কিন্তু সেই জায়গাটা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ছিল। এখন আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে সম্মানের জায়গায় এনেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজই হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা, জনগণকে সেবা দেওয়া। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষয়ভিত্তিক ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। সেখানে নার্স লাগবে।’
এ সময় নার্সদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নার্স তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে পাঠানোর কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের সিইও মো. তৌফিক বিন ইসমাইল।
এ ছাড়া গ্র্যাজুয়েশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার স্কুল অব মেডিসিন কেপিজে হেলথ কেয়ার ইউনির্ভাসিটি কলেজের উপাচার্য ও ডিন প্রফেসর দাতো ডা. লোকমান সাঈম।