1. arifcom24@gmail.com : Arif Uddin : Arif Uddin
  2. admin@khoborbari24.com : arifulweb :
  3. editor@khoborbari24.com : editor : Musfiqur Rahman
  4. hostinger@khoborbari24.com : Hostinger Transfer : Hostinger Transfer
  5. khoborbari@khoborbari24.com : Khoborbari : Khoborbari
  6. khobor@gmail.com : :
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
প্রধান সড়কে তুলার দোকান, প্রকাশ্য তুলোধুনোতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ ফুলছড়িতে নবজাগরণ পাঠাগারের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা গাইবান্ধায় নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার : মিলল হাতে লেখা চিরকুট তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৫ মাসের জেল তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথপরিক্রমা ধানমন্ডিতে জোড়া খুন: গৃহকর্মী সুরভীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলায় নিহত ১৪ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

হালাল পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের কেন্দ্র বিন্দুতে রূপান্তরিত হতে চায় মালয়েশিয়া

  • আপডেট হয়েছে : শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

মুসলিমদের খাদ্য তালিকার হালাল খাবার অন্যতম গুরুত্ব বহন করে থাকে আর যখন নারিকেলের পানির কথা বলা হয় তখন আপনা আপনিই আমাদের মনে এক ধরনের বসন্তের হাওয়া বয়ে যায়।

ইসলামের হালাল নীতি অনুযায়ী শুকরের মাংস এবং এলকোহল পুরোপুরি নিষিদ্ধ এবং যে কোনো ধরণের পশুর মাংস হালাল হতে হলে সেই পশুটিকে অবশ্যই কিছু ইসলাম নির্দেশিত কিছু সুনির্দিষ্ট রীতি অনুযায়ী জবাই করতে হবে।

মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় নারিকেল ভিত্তিক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ‘Linaco’ ২০০০ সালেই হালাল সনদ প্রাপ্ত হয়েছে।

‘Linaco’ নির্বাহী পরিচালক জো লিং বলেন, হালাল সনদ আমাদের জন্য বাধ্যতা মূলক নয় কিন্তু হালাল সনদ থাকালে তা ব্যবসায় উন্নতির জন্য সহায়ক। ২০০৬ সালে কোম্পানিটি ২০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

‘Linaco’ মিশর, তুরস্ক, উজবেকিস্থান এবং কুয়েতে তাদের শাখা খুলেছে এবং কোম্পানির দীর্ঘ দিনের হালাল পণ্য উৎপাদনের সুনাম নিয়ে এগিয়ে চলছে।

‘Linaco’ নারিকেল ভিত্তিক পণ্য যেমন নারিকেলের পানি, নারিকেল ক্রিম এবং প্রক্রিয়াজাত নারিকেল বিশ্বের ৪০টির ও বেশী দেশে রপ্তানি করছে।

‘Linaco’ প্রতিষ্ঠাতা ৩৮ বছর বয়সী লিং বলেন, ‘হালাল সনদ ভোক্তাদের কে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, আমাদের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সর্বচ্চ মান বজায় থাকে।’

মালয়েশিয়া একটি বৈশ্বিক হালাল বাজার তৈরী করতে চায় এবং দেশটি এই বাজারের কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থান করতে চায়। এ লক্ষ্যে দেশটি হালাল শব্দটি বৃহৎ অর্থে ব্যাখ্যা করতে চায় যার আওতায় হালাল যানবাহন, প্রসাধনী, ঔষধ, স্বাস্থ্য পণ্য এমনকি হালাল ব্যাংকিং প্রথা অন্তর্ভুক্ত।

মালয়েশিয়ার ‘External Trade Development Corporation (Matrade)’ নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানটি হালাল শব্দটির বৃহৎ ব্যাখ্যার মাধ্যমে একে নিরাপদ, মান সম্পন্ন, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পণ্য উৎপাদনের সাথে যুক্ত করতে চায়।

‘External Trade Development Corporation (Matrade)’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ান লাতিফ ওয়ান মুসা বলেন, ‘হালাল শব্দটি খাদ্য এবং পানীয় ছাড়াও আরো বৃহৎ অর্থ বহন করে, হালাল মূলত একটি জীবন ব্যবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মালয়েশিয়ার মুসলিম কমিউনিটি তাদের খাদ্য পণ্যের সনদ নিয়ে সচেতন। ঠিক একই বিষয় বিশ্ব ব্যাপী লক্ষ্য করা যাচ্ছে, হালাল পণ্যের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাপী সচেতনতা তৈরী হচ্ছে। সুতরাং হালাল সনদ যুক্ত পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তার মতে, এমনটি অমুসলিমরা ও হালাল সত্যায়ন থাকলে সেই পণ্য কে নিরাপদ এবং মান সম্পন্ন মনে করে।

ব্রান্ড তৈরী করা

চলতি মাসের এপ্রিল মাসে চীনের বেল্ট এবং রোড প্রকল্পের একটি অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রী আজমিন আলি তার দেশের হালাল শিল্পের দিকে বিশ্বের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

আজমিন আলি বলেন, ‘মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক হালাল নীতিমালার উন্নয়ন এবং এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হালাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা হালাল সনদ দ্বারা সত্যায়নের এই প্রক্রিয়া বিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারবো।’

এছাড়াও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়া ‘Global Halal Summit’ এবং অষ্টম বারের মত কুয়ালালামপুর শহরে ‘Malaysia International Halal Showcase’ এর প্রদর্শনী করে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০টির ও বেশী দেশ থেকে অন্তত ৩০,০০০ জন দর্শনার্থী যোগ দান করেন।

বিগত কয়েক দশক যাবত মালয়েশিয়া হালাল সনদ দ্বারা সত্যায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নীতি মালার উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

এ লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ‘The Department of Islamic Development Malaysia’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যাতে করে মুসলিমদের কে হালাল খাবার খুঁজে পেতে সহায়তা করা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটির হালাল সনদ এবং সত্যায়ন আন্তর্জাতিক ভাবে খুবই গ্রহণযোগ্য। মালয়েশিয়ান পণ্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৪৫ টি দেশের ৭৮ ধরণের পণ্যের হালাল সনদ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

একই ভাবে বিশ্ব ব্যাপী হালাল বিষয় সমূহের সাথে যুক্ত ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের জন্য ‘The Halal Development Corporation’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর ১৯৯৫ সাল থেকেই ‘Association of Islamic Banking Institutions Malaysia’ শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংকিং প্রথার চর্চা করে আসছে।

লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ
মধ্য প্রাচ্যের সোশ্যাল মিড়িয়া জুড়ে বর্তমানে বোতল জাত পানি বা কার্বোনেটেড পানীয় সমূহ কে হালাল সনদ দেয়া হবে কিনা এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক হচ্ছে। ‘The Department of Islamic Development Malaysia’ এর পরিচালক সিরাজুদ্দিন বিন সুহাইমি বলে, কিছু পানীয় বিশুদ্ধ করণ প্রক্রিয়ায় শুকরের হাড় থেকে তৈরী কয়লা ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরবে হালাল পণ্যের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি নিষেধ রয়েছে। দেশটিতে এমনকি যদি কোনো ঔষধ হালাল সনদ প্রাপ্ত না হয় তবে তা যেকোনো মরণ ঘাতী রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও ব্যাবহার করা নিষিদ্ধ।

মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধ উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠান ‘CCM Duopharma Biotech’ তাদের প্রত্যেকটি পণ্য উৎপাদনে হালাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকে এবং তাদের ঔষধ সমূহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাবহার করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কর্মকর্তা আবদুল মাজিদ বলেন, ‘আমরা ভোক্তাদের মধ্যে হালাল ঔষধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করতে চাই।’

এদিকে মালয়েশিয়ার বিমান চলাচল শিল্পে ইতোমধ্যে হালাল উড্ডয়নের চাহিদা বড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক বছর সমূহে মালয়েশিয়া থেকে জাপানের টোকিও বিমান বন্দরে মুসলিমদের ভ্রমণ বেড়ে গিয়েছে এবং মালয়েশিয়ান বিমানের প্রতিটি উড্ডয়নে মুসলিম যাত্রীদের জন্য আলাদা রান্না ঘরে হালাল খাবার তৈরী করা হয়।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তাদের প্রতিটি খাদ্য পণ্য হালাল নীতিমালা অনুসারে পরিবেশন করে থাকে।

প্রতিযোগিতা পূর্ণ বাজার
মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশী মুসলিম অধ্যুষিত দেশ যার রয়েছে ২৬ মিলিয়ন নাগরিক। আর সম্প্রতি দেশটি হালাল সনদ দ্বারা সত্যায়নের জন্য নিজস্ব নীতিমালা তৈরী করা শুরু করেছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সম্প্রতি একটি আইন জারী করেছেন। ওই আইন অনুযায়ী দেশটির সকল খাদ্য পণ্য, পানীয়, ঔষধ এবং প্রসাধনীর মোড়কের গায়ে তা হালাল কিনা এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া আবশ্যকীয় করেছে।

গত বছর প্রযুক্ত পণ্য উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠান ‘Sharp’ ইন্দোনেশিয়া তে প্রথম বারের মত হালাল সনদ প্রাপ্ত ফ্রিজ বাজারে এনেছে।

‘Indonesia Halal Watch’ এর নির্বাহী পরিচালক ইকশান আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রের উচিত ছোট ছোট উদ্যোগ সমূহের পাশে দাঁড়ানো এবং হালাল সনদ অর্জনের জন্য তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।’

‘The Indonesian Ulema Council (MUI)’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ায় হালাল সনদ প্রদান করে থাকে যা দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ আমিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। ইন্দোনেশিয়ান বার্তা সংস্থা টির্টোর হিসেব অনুযায়ী ‘MUI’ হালাল সনদ প্রদানের ফি বাবত বিগত চার বছরে অন্তত ৮.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডালার আয় করেছে।

সূত্র: এসসিএমপি ডট কম।

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft

error: Content is protected !!