
নওগাঁর মান্দায় এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার পর তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সামিউল ইসলাম সাগর (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহতের স্বামী নাটোর জেলায় একটি খামারে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। বাড়িতে স্ত্রী ও উচ্চ মাধ্যমিকে পডুয়া মেয়ে থাকতেন। মেয়ের সঙ্গে সামিউল ইসলাম সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
কিছুদিন হল সর্ম্পকের টানাপোড়েন শুরু হয়। এ কারণে প্রেমিকাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি নিয়ে গভীর রাতে প্রেমিকার বাড়িতে যায় সাগর। একপর্যায়ে ঘরের ছাদে উঠে ও সেখান থেকে প্রেমিকার রুমে যায়। গিয়ে দেখে মায়ের সঙ্গে প্রেমিকা ঘুমিয়ে আছে। এরপর প্রেমিকাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সে। এ সময় দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডতা হয়। এতে প্রেমিকার মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বিছানা থেকে উঠতেই সাগর তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে।
এতে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর সাগর গলাকেটে তাকে হত্যা করে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর সাগর প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। সাগর উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।
নিহতের স্বামী জানান, তিনি নাটোরে চাকরি করেন। বাড়িতে স্ত্রী ও মেয়ে থাকে। স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে- এ খবর তিনি রাতেই মোবাইলে জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি ওই নরপিশাচের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, নিহতের মেয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘাতক সাগরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।