
যুক্তরাষ্ট্রের একজন খ্রিস্টান ধর্ম যাজক সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম ধর্ম প্রচারক বনে গিয়েছেন এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য উৎসাহ হিসেবে সৌদি আরবের নাগরিকদের কথা উদ্ভাসিত করেছেন।
স্যামুয়েল আর্ল শ্রোপশাইয়ার নামের এই খ্রিষ্টান ধর্ম যাজক সৌদি ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ‘Sabq’ কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং এর পেছনের অনেক গল্প সম্পর্কে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন।
সৌদি আরবে বসবাস কারী এই ধর্ম যাজক বলেন, সৌদি রাজত্বের মধ্য বসবাস করার মাধ্যমে এখানকার লোকজনদের আথিতিয়তা এবং ভালো নৈতিক গুণাবলি মূলত ইসলাম গ্রহণের জন্য তার সিদ্ধান্তে নেয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
সাবেক এই খ্রিষ্টান যাজক ২০১১ সালে পবিত্র কুরআনের ‘easy-to-read’ নামের একটি ইংরেজি অনুবাদের সম্পাদনা করার জন্য সৌদি আরবের জেদ্দায় সফর করেন।
সৌদি ডেইলির সাথে আলোচনার সময় তিনি বলেন, তার সৌদি সফরের পূর্বে তিনি এই ভয়ে ভীত ছিলেন যে তার নিজের ধর্মের জন্য সৌদি আরবে তিনি বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
তথাপি তিনি অচিরেই বুজতে পারেন যে, সৌদি আরব সম্পর্কে গণমাধ্যম সমূহ যা তুলে ধরে তার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে অনেক ভালো লোকজন দেখেছি যারা অন্যের ধর্ম কি তা বিবেচনা না করে উদারতা এবং সহৃদয়তার মাধ্যমে স্বাগত জানায়।’
তার পবিত্র কুরআনের ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনার সাথে সৌদি নাগরিকদের দয়া, অথিতিয়তা এবং বন্ধুত্ব ভাবাপন্নতার যে অভিজ্ঞতা তিনি লাভ করেছেন তাতে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো জানার জন্য উৎসাহ লাভ করেন যা তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে উদ্ভূদ্ধ করে।
২০১৭ সালে তিনি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কে ইউটিউবে একটি ভিড়িও বার্তা পোষ্ট করেন।
তার ভিড়িও বার্তায় তিনি জানান যে, পবিত্র কুরআনের অনুবাদ করার সময় তার মনে অনেক ধরণের ‘প্রশ্নের উদ্ভব’ হতে থাকে এবং তিনি এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন।
মুসলিমদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআনে যেভাবে যিশু এবং কুমারী ম্যারি কে উচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে তা দেখতে পেয়ে তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন।
তিনি তার ভিড়িও বার্তায় আরো বলেন যে জেদ্দায় কর্মরত থাকার সময় তিনি সালাতের জন্য দেয়া আহ্বান বা আজানের ধন্বী শুনতে পেয়ে আকুল হয়ে উঠতেন এবং তার কর্ম ক্ষেত্রের পাশে অবস্থিত মসজিদে সালাত আদায় কারীদের নম্রতা তাকে অনেক বেশী আকৃষ্ট করত।
স্যামুয়েল আর্ল শ্রোপশাইয়ার বলেন, ‘আমার হৃদয় সেই মসজিদের সাথে অভীষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেখানে যাওয়ার জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার নিকট থেকে তাড়না অনুভব করতাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর এক মাস পর তিনি মসজিদটিতে যাওয়ার জন্য তার তাড়নাকে আর দমন ধরিয়ে রাখতে পারেন নি এবং সেখানে সফর করতে গিয়ে তিনি সেখানে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন।’
আর এর কিছুদিন পরে স্যামুয়েল আর্ল শ্রোপশাইয়ার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তিনি ইসলাম ধর্মের একজন প্রচারক হয়ে উঠেন।
স্যামুয়েল আর্ল শ্রোপশাইয়ার কে?
‘IslamiCity.org’ এর মতে ৭০ বছর বয়সী এই ইসলাম ধর্ম প্রচারক ‘Doctor of Theology’ ডিগ্রি ধারী একজন মহান মানুষ যিনি সারা জীবন ভর অলাভজনক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে কাটিয়েছেন।
তিনি মানবাধিকার এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অনেক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করেন যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটিশ সরকারে হয়ে অনেক অলাভজনক মানবাধিকার মূলক কাজে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি এমনটি জাতিসংঘের শান্তি প্রক্রিয়ায়ও কাজ করেছেন।
তিনি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা ‘Muslim Voice for Peace & Reconciliation’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি বিশ্বের সকল মুসলিম কে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে বিশ্বের মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় পুনর্মিলনের জন্য কাজ করে থাকে।
সূত্র: স্টেপফিড ডট কম।