
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনা হচ্ছে আজ। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৭টায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে শপথ নেবে তার মন্ত্রিসভা। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
পাকিস্তান বাদে তার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ বিমসটেকের নেতারা। শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের প্রধান নেতারাও। তবে ‘শপথ নিয়ে রাজনীতি’ করার অভিযোগে তা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা যোগ না দিলেও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী যোগ দিচ্ছেন। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ যোগ দিচ্ছেন। এদিকে মোদির নতুন মন্ত্রিসভা কারা থাকছেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে চাউর হয়েছে, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ অর্থমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন। নতুন মন্ত্রিসভা, অমিত শাহ হতে পারেন অর্থমন্ত্রী।আজ মোদীর সঙ্গে তার নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হলেও তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার বিশ্বস্ত সহযোগী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দুজনই তরুণদের মন্ত্রিসভায় আনতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। মোদীর সঙ্গে তার ৬৫ জন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন।
এরই মধ্যে জানাজানি হয়েছে, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি স্বাস্থ্যগত কারণে বাদ পড়ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রেলওয়ে ও কয়লা বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ গয়াল পেতে পারেন এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব। কারণ অরুণ জেটলি অসুস্থ হয়ে পড়লে দু-দুবার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন গয়াল। স্বাস্থ্যগত কারণে নির্বাচন না করা বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও স্থান পেতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তিনি অর্থমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে দলটির সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘এই সময়’।
১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস ধরে সাত দফায় লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ মে একযোগে ফল ঘোষণা করা হয়।৫৪৩ আসনের লোকসভায় ভোট হয়েছে ৫৪২টিতে। সরকার গঠনের জন্য যেখানে প্রয়োজন ২৭২টি আসন। সেখানে বিজেপি একাই পেয়েছে ২৯৮টি।
আর তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএন জোট পেয়েছে ৩৪৯টি আসন। নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ পেয়েছে ৯৩টি আসন। আর অন্যান্য দল পেয়েছে ১০০টি। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক এই দেশটিতে ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই ভারতীয় জনগণ আবারও তাদের রায় দিয়েছেন।
এরমধ্য দিয়ে ভারতের ইতিহাসে ঢুকে পড়েন মোদী। তিনিই হলেন ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি পরপর দু’বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার (২৭২) ছাড়িয়ে গেছে বিজেপির।
এর আগে জওহরলাল নেহরু পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। ১৯৬৭ সাল ও ১৯৭২ সালে পরপর দু’বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। অপরদিকে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বাড়লেও ইউপিএ জোটের ভরাডুবি হয়েছে।
মমতা ব্যানার্জি, চন্দ্রবাবু নাইডু, মায়াবতী-অখিলেশদের জোট গড়ার চেষ্টা করলেও নিজেদের রাজ্যেই তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।