
সৌদি আরবের তেল পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে ‘সমস্ত শক্তি দিয়ে’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। তবে দেশটি এও বলেছে, সৌদি আরব চায় না এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হোক।
রবিবার ( ১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের এসব কথা বলেন। খবর রয়টর্সের
খবরে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে আল-জুবায়ের বলেছেন, ‘সৌদি আরব এ অঞ্চলে যুদ্ধ চায় না, যুদ্ধ খুঁজেও না। যা যা এই যুদ্ধ রোধ করতে পারে, আমি তা–ই করব। তবে কোনও পক্ষ যুদ্ধ বেছে নিলে সৌদি আরব সমস্ত শক্তি ও সংকল্প নিয়ে সাড়া দেবে। সৌদি আরব তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।’
ইয়েমেনে ইরান–সমর্থিত হুতি বাহিনীকে সৌদি আরবের পাম্পিং স্টেশন হামলা করতে ইরান নির্দেশ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। ইরান অবশ্য এ হামলার নেপথ্যে থাকার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবে শিয়াদের নেতা নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন সুন্নি মুসলিম। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানসহ শিয়া ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশগুলো। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করে শিয়ারা। এ সময় তেহরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে হামলার ঘটনাও ঘটে। এ হামলার ঘটনার রেশ ধরে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও দেশটি থেকে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনে সৌদি আরব।
সৌদির এ ঘোষণার পর ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় বাহরাইন, সুদান, কুয়েত ও কাতার। এ ছাড়া সম্পর্ক হ্রাস করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও জিবুতি।
এদিকে চলমান টানাপড়েনের মাঝেই গত বৃহস্পতিবার ইরান অভিযোগ করে, ইয়েমেনের সানায় তাদের দূতাবাসে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায় দেশটি।