
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একজন কারা কর্মীর কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পোশাক পরিধান করার অনুমতি চেয়ে স্থানীয় গভর্নরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রেইডসভিলে নামক অঞ্চলের রগরেস স্টেট কারাগারের মুসলিম নারী কর্মী জালান্ডা চালহোউন তার ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী হিজাব পরিধান করার জন্য এমন আবেদন জানিয়েছেন।
জালান্ডা চালহোউন জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার মতে তার নতুন ধর্ম ইসলাম অনুযায়ী তিনি তার চুল, কাঁধ, কান এবং গলা হিজাব দ্বারা আবৃত করে রাখতে চান।
জালান্ডা চালহোউন বার্তা সংস্থা ফক্স নিউজকে তার কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেয়া একটি লিখিত আদেশ সরবরাহ করেছেন যেখানে লিখা ছিল যে, তিনি তার কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধান করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ‘যখন আমি প্রথম বার কারা কর্তৃপক্ষের কথামত হিজাব পরিধান করা ত্যাগ করলাম তখন আমার ভাই এবং বোনেরা কর্মক্ষেত্র আমার উপর চাপিয়ে দেয়া এমন নিয়মকে পাগলামি বলে আখ্যায়িত করেছিল। তারা আমাকে এ বিষয়ে সংগ্রাম করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিল কেননা তারা জানে কারা কর্তৃপক্ষের আদেশ ভুলে পরিপূর্ণ।’
জালান্ডা চালহোউনের কারা ওয়ার্ডেন কর্তৃক দেয়া লিখিত আদেশে বলা ছিল, চালহোউনের পরিধানকৃত মাথা ঢেকে রাখার পোশাকের ফলে তাকে একজন কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং তার মত করে একজন অপরাধী এভাবে মাথা ঢেকে রাখার স্কার্ফ ব্যবহার করে পালানোর জন্য ফন্দি খুঁজতে পারে।
‘Council on American-Islamic Relations বা CAIR’ সংস্থাটির জর্জিয়া অঞ্চলের এটর্নি এবং নির্বাহী পরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিটচেল বলেন, ‘সাধারণত আমরা এমনটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ক্ষেত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে দেখে থাকি কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমরা এমনটি এর পূর্বে দেখি নি।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের আশা করা উচিত সরকার অন্য যে কারো চাইতে আইন সম্পর্কে বেশী জ্ঞান রেখে থাকে।’
CAIR জর্জিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের এমন আদেশের মাধ্যমে চালহোউনের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সংগঠনটি একই সাথে চালহোউনকে তার হিজাব পরিধান করার জন্য অনুমতি দিতে এবং সালাত আদায় করার জন্য অন্তত ১০ মিনিট বিরতি দেয়ার আহ্বান জানায়।
জর্জিয়ার গভর্নর দপ্তরের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা সেখান থেকে বলা এক বিবৃতিতে বলা হয়- ‘গভর্নর দপ্তর চালহোউনের বিষয়ে CAIR সাথে যোগাযোগ করেছে এবং আমরা তার কর্ম ক্ষেত্রের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য সকল বিষয় নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মনে করি তার প্রতি যা করা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য এবং এ বিষয়ে তিনি আইনি প্রতিকার পাবেন।’
CAIR এর নির্বাহী পরিচলাক আহমেদ মিটচেল বলেন, এ বিষয়ে গভর্নরের দপ্তরে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়া পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন হয় এ বিষয়ে ফেডারাল আপীল আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হবে।