
টানা দাবদাহের পরে রাজধানীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অর্ধ শতাধিক। এড়াছাও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে।
ইফতারের পর রাজধানীতে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। আর তাতেই ভেঙে যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের একটি অস্থায়ী প্যান্ডেল। এতে প্রাণ হারান একজন, আহত হন কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক মুসল্লি।
অন্যদিকে মধ্যবাড্ডায় প্রাণ সেন্টারের পাশে একটি দেয়াল ধসে তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং অপর একজনের লাশ পঙ্গু হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বায়তুল মোকাররমের ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি রাজধানীর একটি টায়ার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন, থাকতেন পোস্তগোলায়। শফিকের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়।
এছাড়া ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেশিরভাগ মুসল্লির শরীরে কাটা-ছেড়া এবং রক্তাক্ত দেখা গেছে বলেও জানান ঢামেক প্রতিনিধি।
আহতরা জানিয়েছেন, ইফতার শেষ করে তারা নামায আদায় করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কালবৈশাখী এলে, বায়তুল মোকারমের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে মুসল্লিদের ওপর পড়ে।
অন্যদিকে মধ্যবাড্ডায় ঝড়ে দেয়াল ধসে তিনজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মধ্যবাড্ডায় প্রাণ সেন্টারের পাশে একটি দেয়াল ধসে তিনজন চাপা পড়ে। তাদের মধ্যে দুইজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারলাম।
মধ্যবাড্ডায় দেয়াল ধসের ঘটনায় যে দুইজন মারা গেছেন, তাদের একজন হলেন- নড়াইলের বুলবুল বিশ্বাস (২৭)। তিনি রাজধানীর অছিম পরিবহনের টিকিট চেকার ছিলেন। নিহত আরেকজন নীলফামারীর তপন (২৮), তিনি পথচারী ছিলেন। তবে পঙ্গু হাসপাতালে নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাসেল সিকদার জানান, সন্ধ্যার তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বায়তুল মোকারম মসজিদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ অংশে স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবু ভেঙে পড়ে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঝড়ে কয়েক জায়গায় গাছ উপড়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, টানা তাপপ্রবাহের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা ছিল বেশি।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে ঢাকায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী বয়ে যায়। তবে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৯৩ কিলোমিটার, এটাই ছিল ঢাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ।