
পবিত্র রমজান মাস কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় উৎপাদনকারী ব্রান্ড কোকা কোলা তাদের নতুন ফ্লাগশিপ বেভারেজে ইসলামি প্রতীক ব্যবহার করে বাজারজাত করছে।
যদিও কোকা কোলার বোতলে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয় নি অনেকে কোকা কোলার এমন উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে।
ইসলামের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজানের সাথে একাত্ম প্রকাশ করতেই নরওয়েতে ব্রান্ডটি এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কোকা কোলা নরওয়েজুড়ে তাদের নতুন ফ্লাগশিপ বেভারেজে ইসলামি প্রতীক নতুন চাঁদ ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।
যদিও পবিত্র রমজান মাস কে উদযাপন করে কোকা কোলা বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে এমন আয়োজন করে থাকে কিন্তু এই প্রথম ব্রান্ডটি কে কোনো স্কান্ডেনেভিয়ান দেশে এমন উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছে।
কোকা কোলা নরওয়ের বাজার ব্যবস্থাপক জোহান্না কোসানোভিচ নরওয়ের বার্তা সংস্থা ‘Dagbladet’ কে বলেন, ‘সমাজে বৈচিত্র্য আমাদের নিকট কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা দেখাতে চাই। বৈচিত্র্য এবং সংযুক্তিকরণ কোকা কোলার জন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ সরূপ, অনেকেই জানে না যে, ১৯৫০ সালে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় আমরা এর সাথে সংযুক্ত ছিলাম। কোকা কোলা সবসময় নারী অধিকার কে তাদের প্রচারণার অংশ করে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, তার কোম্পানি বৈচিত্র্য এবং লিঙ্গ সমতার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
‘Norwegian Business School’ এর বাজার বিষয়ক অধ্যাপক নিনা মারিয়ানে যুক্তি দিয়ে বলেন, এটি পরিষ্কার যে, কোকা কোলা মুসলিমদের সাথে সখ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, ‘কোকা কোলা তাদের ব্রান্ডের সাথে বৈচিত্র্য এবং সংযুক্তিকরণ করে এটা দেখাতে চায় যে, তারা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোম্পানিটি তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হোক এমন ঝুঁকি নিতে চায় না।’
নরওয়ের বামপন্থী লেবার পার্টির মুসলিম সদস্য ফাতিমা আলমানেয়া যুক্তি দিয়ে বলেন, কোকা কোলার প্রচারণা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কোকা কোলা ক্রিসমাস উপলক্ষে যেরকম প্রচারণা চালায় তাতে করে পবিত্র রমজান মাসে এমন উদ্যোগ নেয়া কোম্পানিটির জন্য স্বাভাবিক বিষয়।
তার মতে, কোকা কোলার এমন প্রচারণা অবশ্যই সমাজের বিভেদ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য কৌতূহল সৃষ্টি কারী এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কারী হওয়া উচিত।
তবে সোশ্যাল মাধ্যমে কোকা কোলার এমন উদ্যোগ সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নরওয়ের মত সুন্দর একটি দেশে ইসলাম কে কখনো স্বাগত জানানো হয় নি এবং দেশটি ইসলাম ধর্ম আকাঙ্ক্ষা করে না। এই প্রচারণা নিয়ে একটি ইসলামিক দেশে চলে যাও এবং সেখানে খ্রিষ্টান ছুটির দিনের সময় প্রচারণা চালাও।’
আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেন, ‘আমি ইসলামের বিরুদ্ধে নই কিন্তু একটি খ্রিষ্টান দেশে কোকা কোলার এমন আচরণ করা উচিত হয় নি।’
প্রসঙ্গত, নরওয়ের ইসলামিক কমিউনিটি ১৯৬০ সাল থেকে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির ৫.২ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা শতকরা ৫.৭ শতাংশ।
নতুন চাঁদের প্রতীক প্রায়শ মুসলিমদের মসজিদ সমূহ অলঙ্কৃত করতে ব্যবহৃত হয়। ইসলাম ধর্মে চাঁদের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে এবং ইসলামিক দিন পঞ্জিকা, ধর্মীয় উৎসব সমূহ ইত্যাদি চাঁদের আবর্তনের উপর ভিত্ত রচিত।