
আদর্শ বিসর্জন দেননি বলেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ মাধ্যমে এমন দাবিই করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তাদের প্রত্যাশা, সংসদের বাইরে থেকে দলকে সুসংগঠিত করে দাবি আদায়ে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি মহাসচিব।
বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপি মহাসচিব বাদে বাকি চারজন। মির্জা ফখরুল কেন শপথ নেননি তার কারণও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
শপথ না নেয়ার কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটাও আমার দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের কৌশল, এই কৌশলগত কারণেই আমি শপথ নেইনি।’ তবে, দলটির নেতারা বলছেন, নৈতিকতার প্রশ্নেই শপথ নেননি তাদের মহাসচিব।
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উনাকেও শপথ নিতে বলেছিলেন। কিন্তু, তিনি তারেক রহমানকে সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, উনি শপথ নিলে দলের কার্যকর ভূমিকা রাখায় অসুবিধা হবে। সংসদ এবং দল, দুইটা একসঙ্গে দেখা কঠিন হবে তাই তিনি শপথ নেননি।’
আর এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মহাসচিব শপথ নেননি ভালোই করেছেন। এটি তার ব্যক্তিগত ইগোর বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে অন্তত এটা প্রকাশ পাবে, উনি অন্তত সংসদে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যাননি।’ তিনি একটি ট্যাক্স ফি গাড়ির লোভ সামলাতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য করেন মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
অন্যদিকে, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠিতা ডা. জাফরুল্লাহও মনে করেন, বিএনপি মহাসচিবের শপথ না নেয়ার পেছনে রয়েছে আদর্শের দ্বন্দ্ব। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক কথা হল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে যেতে পারলেন না। এখানে একটা আদর্শিক ব্যাপার আছে। স্থায়ী কমিটি সদস্যরা শপথ নেয়ার জন্য একজনকে বহিঃষ্কার করলো। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তখন বললো কোনোভাবেই তারা শপথ নেয়ার পক্ষে না। সেসব কারণেই হয়তো তিনি আদর্শগত কারণে শপথ নিলেন না।’
তবে, বিএনপি মহাসচিব শপথ না নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার পর আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, যে আমরা সংসদে যাব। সেটা আমাদের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক। কিন্তু, সিদ্ধান্ত হলো আমরা সংসদে যাব। সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় মহাসচিবও ছিলেন। তাহলে তিনি কেন সে সিদ্ধান্ত গ্রাহ্য করলেন না। এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিবে।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।