
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে রংপুর-(৫) মিঠাপুকুর আসনে বিএনপি প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীর পক্ষের আইনজীবিদের কোন প্রকার ব্যাখ্যার সুযোগ না দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ করেছে প্রার্থীর আইনজীবিরা।
বৃহস্পতিবারর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোলাম রব্বানীর পক্ষে তার আইনজীবী বায়েজিদ ওসমানী ও প্রস্তাবক এবং সমর্থকসহ বিএনপি-জামাতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ গ্রহণের কাগজ না আসা এবং হলফনামায় দুটি মামলার তথ্য উল্লেখ না করার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তবে গোলাম রাব্বানীর আইনজীবী বায়েজিদ ওসমানী বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমাদের কথা বলার সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা রায় ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, যে মামলার কথা বলা হয়েছে সেই দুটি মামলায় গোলাম রাব্বানীর নাম নেই। কিন্তু আমরা তথ্য দিতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো কথা শোনেননি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই কক্ষে তাকেসহ অন্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন।
এদিকে মুঠোফোনে ওই হট্টগোলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আইনজীবী বায়েজিদ ওসমানী বলেন, তারা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত কাগজ না আসায় এবং মামলার তথ্য উল্লেখ না করার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ নভেম্বর জামায়াত নেতা গোলাম রাব্বানীর মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে প্রস্তাবক ও আইনজীবীকে পুলিশ বাধা দেয়। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধার সৃষ্টি করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রায় পাঁচ ঘন্ট দাঁড় করিয়ে রেখে এক পর্যায়ে সময় উত্তীর্ণ অজুহাত দেখিয়ে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় শনিবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হয়।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় রোববার হাইকোর্টে রিট করা হয়। সোমবার এই রিটের শুনানি হয়। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলার এই সাংগঠনিক আমিরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানী বিগত মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেনকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের নানা মামলায় তিনি সাড়ে ৪ বছর জেলে থাকেন। এরপর তাকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।