
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে একটি কথা বেশ শোনা যাচ্ছে, তা হলো ‘ক্লিন ইমেজের ক্যান্ডিডেট’।
কিন্তু প্রার্থীদের কাছে এই শব্দমালার মানে কী?
সিরাজগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, ‘ক্লিন ক্যান্ডিডেট’ বলতে তিনি বোঝেন যে প্রার্থী পেশী শক্তিবিহীন এবং আর্থিক দুর্নীতি থেকে মুক্ত তাকে। খবর বিবিসির।
একই সঙ্গে তাকে তার এলাকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
‘যদি একজন সংসদ সদস্য জন-বান্ধব না হয়, এলাকায় সুপরিচিত না হয়, সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারে, কিন্তু ভীষণভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী অ্যান্ড সো অ্যান্ড সো, সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় না, তাকে ক্লিন ইমেজের এমপি বলা যেতে পারে।’
মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, তিনি মনে করেন, কেবল আওয়ামী লীগ নয়, যে কোন দলের জন্য ‘ক্লিন ইমেজের প্রার্থী’ দেয়া জরুরী।
এবারের নির্বাচনে ‘ক্লিন ইমেজের প্রার্থী’ দেয়ার দাবী কতটা আছে?
জবাবে তিনি বলছেন, ‘সময় এসেছে মানুষ এখন ভীষণভাবে পরিবর্তন চায় এবং তারা যোগ্য এবং পরিষ্কার ইমেজের প্রার্থী চায়।’
দুর্নীতির অভিযোগ নেই, পেশী শক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেনি এমনসব বিভিন্ন বিষয়ে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবার জন্যে দলগুলোর প্রতি দাবি উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে?
নিজের দল আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে মুশফিকুর রহমান মোহন ধারণা দিতে পারেননি।
কিন্তু তিনি বলছিলেন, ‘যে দল এক্ষেত্রে ভুল করবে, সে দল অবশ্যই নির্বাচনে পরাজিত হবে। সুতরাং আমার মনে হয়, দলগুলো নিজের স্বার্থেই ক্লিন প্রার্থী বাছাই করার চেষ্টা করবে।’
‘এখানে আরেকটি জিনিস, ব্যবসায়িক সফলতা আর রাজনৈতিক সফলতা ও দূরদর্শিতা এক জিনিস নয়। আমাদের সংসদে এখন মাত্র ১২-১৩ শতাংশ রাজনীতিবিদ, বাকী সব ব্যবসায়ী।’
দলের কাছে বিষয়টি কীভাবে তুলে ধরছেন প্রার্থীরা?
মুশফিকুর রহমান মোহন এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিষয়টি দলের কাছে এবং তার এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ফেসবুকে রাজনৈতিক নিরক্ষর, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং নানা দুষ্কর্মে জড়িত বদনাম আছে এমন কেউ যেন মনোনয়ন না পায়, সে বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সবগুলো রাজনৈতিক দলে মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি শেষে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।