
বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় নেতাদের মনোনয় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ কারণেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাংসদকে দলের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে না বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সাংসদ ও নেতাকে মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সূত্রগুলো এমন ১৩ জন নেতার নাম জানিয়েছেন যারা এবার মনোনয়ন দৌড়ে থাকলেও চূড়ান্তভাবে দলের টিকেট পাবেন না। তবে এর বাইরেও আরও বেশ কয়েকজনের নাম থাকার কথা জানা গেলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি সূত্রগুলো। সেই সঙ্গে মনোনয়ন পেতে চলেছেন এমন ৩০ জনের নামেরও একটি তালিকা দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসেছে।
তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ জনই দশম জাতীয় সংসদের এমপি। এর মধ্যে আবার দুজন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন। সূত্রগুলো বলছে, সরকারি ও বেসকারি ছয়টি সংস্থার জরিপে তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসায় এবার তারা আর মনোনয়ন পাবেন না। তবে মন্ত্রিসভায় থাকা ৪২ জন আইন প্রণেতার সবাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলেও একই সূত্রে জানা গেছে।
দলের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থাকায় সূত্রগুলো তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চায়নি।
আরও জানা গেছে, দলের দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকা থেকে কে মনোনয়ন পাবে সেই বিষয়টিও চূড়ান্ত করেনি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড। এই দুটি আসন হলো জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঢাকা-১৩ ও আব্দুর রহমানের ফরিদপুর-১।
শনিবার পর্যন্ত সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩২টি আসনের জন্য আওয়ামী লীগ তার প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করেছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে বিএম মোজাম্মেল হক ও মাদারিপুর-৩ আসনের এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম এই তালিকায় নেই।
তাদের পরিবর্তে আসন দুটি থেকে যথাক্রমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ মনোনয়ন পেতে চলেছেন।
জোটের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলো থেকে কারা প্রার্থী হবে সেটি ঠিক করেনি আওয়ামী লীগ।