
নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার একটি রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করা কেন অবৈধ হবে, না সে বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
দুপুরে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ একটি রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
কাফরুল থানার বাসিন্দা রিটকারী মোজাম্মেল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি একজন বিএনপির সমর্থক। যদিও রিটের শুনানি করেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নেতা মমতাজ আহমেদ মেহেদি। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাব্কে সাধারণ সম্পাদক। মঙ্গলবার দায়ের করা রিটটির আজ শুনানি হয়।
মোজাম্মেল হোসেন নির্বাচন কমিশনকেও বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার জন্য একটি আবেদন দিয়েছেন। আজ হাইকোর্টের আদেশে বিষয়টি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব, বিএনপির চেয়ারপারসন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে দল ভাঙার আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়ে সংশোধিত গঠনতন্ত্র ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার (সিইসি) কাছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, দল ভাঙার চেষ্টায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে এই আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দেয়া হয়েছে। সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারার ‘ঘ’তে বলা ছিল, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ভাঙতে সরকারের একটি মহল থেকে চেষ্টা-তৎপরতা চালানো হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর এই তৎপরতা গতি পেতে পারে। এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের সদস্যপদের অযোগ্য হবেন বলে যে কথাটি গঠনতন্ত্রে আছে, তা সামনে এনে ওই মহল বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দলের একটা অংশকে ব্যবহার করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে গঠনতন্ত্রের ৭ ধারাটি তুলে দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব পাস হয়। আগের গঠনতন্ত্রের ৭ (ঘ) ধারাটি ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এত দিন দলটি নির্বাচন কমিশনে গঠনতন্ত্র জমা দেয়নি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে চিঠিও দেয়। ১ বছর ১০ মাস পর ওই ধারা বাদ দিয়ে ২৮ জানুয়ারি গঠনতন্ত্র জমা দিল দলটি।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা আছে, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তাঁরা হলেন: (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি। (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।
অবশ্য গঠনতন্ত্রের ৩-এ ‘সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা’ ও ‘সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা’ ধারাটি বলবৎ আছে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন, এমন কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতায়, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরোধী, গোপন সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী, সক্রিয়ভাবে-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সমাজবিরোধী ও গণবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়া হবে না।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ৩ নম্বর ধারার নির্দেশনাই দলের যেকোনো কমিটির সদস্য ও সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্যতা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।