
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কিত কমিশন সভা চলাকালে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এ সভা শুরু হয়। সভা শুরুর পর ৭ মিনিটের মাথায় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার।
তবে বাকি তিন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে বৈঠক চালিয়ে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
ইসি সূত্রে জানা যায়, বাক-স্বাধীনতা ‘কেড়ে নেয়ার’ অভিযোগ তুলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে কমিশন সভা বর্জন করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকুদার। বেরিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলবো না।’
তবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে’ ৫ দফা প্রস্তাব নিয়ে সভায় বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন এই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু সেই সুযোগ না পাওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর কমিশনে দেয়া এক আনঅফিশিয়াল নোটে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে’ ওই ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। নির্বাচনী দায়িত্বে সেনাবাহিনীর কার্যপরিধি নির্ধারণ, সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন, ভোটে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে নিজের মতামত সেখানে তিনি তুলে ধরেন।
আজকের কমিশন সভায় ওই বিষয়গুলো নিয়েই বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার।
নোট অব ডিসেন্টে তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই আমার অধিকার খর্ব করতে পারে না, বাক-স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা আমার সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার। এমতাবস্থায় অনন্যোপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি এবং প্রতিবাদস্বরূপ কমিশন সভা বর্জন করছি।’
মাহবুব তালুকদার লিখেছেন, কমিশন সভায় তাকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেয়ার বিষয়ে কমিশনারদের ‘অভিন্ন অবস্থান’ তাকে ‘বিস্মিত ও মর্মাহত’ করেছে। ওই ৫ দফা প্রস্তাব কমিশন সভার কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও অনুরোধ করেছেন এই নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে গত ৩০ আগাস্ট কমিশন সভা বসেছিল আরপিও সংশোধন নিয়ে। যেই সভা বর্জন করেছিরেন নির্বাচন কমিশন মাহবুব তালুকদার। একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচির চূড়ান্ত কপি কমিশনে উপস্থানের জন্য ইসির নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় শাখাসহ সব বিভাগে কাজ ভাগ করে দেয়া হয়।সূত্র-আরটিএনএন