
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ বছরের সংঘাত শেষে অবশেষে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবেই দুই দেশের নাগরিকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে সম্মত হয়েছেন।
উৎফুল্ল আফ্রিকানরা এই ঐতিহাসিক দিনটিকে উদযাপন করার জন্য তাদের সীমান্তের দিকে ছুটে চলেছেন। তাদের অনেকের পরিবারকেই এতো বছর ধরে বাধ্যতামূলক বিভেদের সম্মুখীন হয়ে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে হয়েছিল।
১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া একটি গণভোটের মাধ্যমে ইথিওপিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যকার বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল।
দেশ দুটোর মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের ফলে ১৯৯৮ সালে থেকে পরবর্তী দুই বছর ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে নানা ইস্যুতে উত্তেজনা চলে আসছিল।
ব্যাপক গণবিক্ষোভের ফলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে আবি আহমেদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন।
আবি আহমেদ তার অভিষেক ভাষণে ইরিত্রিয়ার নেতাদেরকে দেশ দুটির মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়ে আবি আহমেদের প্রশাসন ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তার প্রশাসনের উদ্যোগে ইথিওপিয়ানরা তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং গণমাধ্যমগুলো পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা লাভ করেছে।
সীমান্ত খুলে দেয়ার পর ইরিত্রিরিয়ার জনগণকে ইথিওপিয়ানদের সাথে নতুন বছর উদযাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সীমান্ত খুলে দেয়ায় দুই দেশের নাগরিকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
সূত্রঃ গুড নিউজ নেটওয়ার্ক।