
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তুর্কিস সাইপ্রাসে (সাইপ্রাসের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র যেটিকে একমাত্র তুরস্ক স্বীকৃতি দিয়েছে) কোনো প্রকার সেনা ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা তুরস্কের নেই। তবে সেখানে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর(TSK) উপস্থিতি থাকবে এবং TSK এর আরো কয়েকটি দল সেখানে মোতায়েন করা হবে।
চলতি মাসের ১৬ তারিখে আজারবাইজানে সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে মোতায়েনকৃত সেনা সংখ্যা হ্রাস করবো না বরং সেখানে আমরা সেনা সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘তুর্কিস সাইপ্রাসে আমাদের কোনো ঘাঁটি স্থাপন করার প্রয়োজন নেই। সেখানে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ এরদোগান আরো যোগ করে বলেন, তুরস্ক দ্বীপটির খুবই নিকটে সুতরাং সেখানে পৌঁছানো আমাদের জন্য কোনো সমস্যা নয়।
‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা সেখানে পৌঁছে যেতে পারি। তবে এটি গ্রিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে আমাদের কোনো ঘাঁটি স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়নি।’
এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। প্রয়োজনে আমরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি।–এরদোগান এমনটি বলেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডে, তুর্কিস সাইপ্রাস দ্বীপের অধিবাসী নেতারা এবং গ্রীক সাইপ্রাস দ্বীপের নেতারা তুরস্ক এবং গ্রীসের নেতাদের সাথে একত্রে দ্বীপ দুটির মধ্যে ৪৩ বছর ধরে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি কল্পে এক গোল টেবিল আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।
সেই বৈঠকে গ্রীসের নেতারা দ্বীপটিতে তুরস্কে সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করেছিলো। সাথে সাথে তারা সাইপ্রাসের নিরাপত্তা দাতা হিসাবে তুরস্কের ভূমিকাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো।
১৯৭৪ সালে সাইপ্রাস দ্বীপগুলোকে একীভূত করার জন্য গ্রীসের উদ্যোগ নেওয়াকে তুরস্ক আটকে দেয়ার পর থেকে দ্বীপটি আলাদা দুটো রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
১৯৮৩ সালের ১৫ নভেম্বরে উত্তর সাইপ্রাসকে তুর্কি রিপাবলিক ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র তুরস্কই দ্বীপটিকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০০৪ সালে গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যকার বিরোধের মিমাংসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘আন পরিকল্পনা’ নামের একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তুরস্ক তাতে সম্মত হলেও গ্রীসের বিরোধিতার কারণে তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে দ্বীপ রাষ্ট্র দুটোকে নিয়ে তুরস্ক এবং গ্রীসের মধ্যকার বিরোধ চরমে উঠেছে।
সূত্রঃ হুররিয়েত ডেইলি নিউজ।