
জাতীয় নির্বাচনও নিয়ন্ত্রিত হবে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘বর্তমান কমিশন এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। পাঁচ সিটি নির্বাচন তারা সুষ্ঠু করতে পারেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন নির্বাচনে যে অনিয়ম হবে না তা বলা যায় না। তার বক্তব্যেই বোঝা যায় অনিয়ম হবে এমন একটি স্ট্যান্ডার্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ নীতি অব্যাহত থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনও নিয়ন্ত্রিত হবে।’
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে কেমন জনপ্রতিনিধি পেলাম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সুজন। সেখানে ওই মন্তব্য করেন সুজন সম্পাদক।
তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে পাঁচ সিটি করপোরেশনে আমরা বিভিন্ন রকমের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের বিভিন্ন রূপ দেখেছি। এগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এতে দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
দুই সিটি নির্বাচন সম্পর্কে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সিলেটের নির্বাচন ক্ল্যাসিক কেস। সিল মেরেও নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে পারেনি। রাজশাহীতে সরকারি দলের প্রার্থী এমনিতেও জিততেন। সিল মারার দরকার ছিল না।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার তোড়জোড় সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র দেড়মাস বাকি। এখন ইভিএম কিনে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় কোথায়?
তিনি বলেন, যে কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার সর্ম্পকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। সেখানে নির্বাচনের মাত্র চারমাস আছে। এখন কিভাবে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে। নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার উদ্যোগকে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
এসময় সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ইভিএম বুথে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে সুইচ থাকবে। তিনি সুইচ টিপ দেওয়ার পর ভোট দিতে পারবেন।
এসময় যদি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের একাধিকবার সুইচ টিপ দেন, তাহলে একজন ভোটারই একাধিক ভোট দিতে পারবেন। সুতরাং নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা না থাকলে ইভিএম মেশিন দিয়েও ভোট কারচুপি করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এখন সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে (সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, নাগিরক সমাজের প্রতিনিধ) নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।