
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সোমবার তুরস্কের অর্থনীতির বিরুদ্ধে ভূয়া খবর প্রকাশকারীদের ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী’ বলে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তাদেরকে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানান তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব কাজে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা শুরু করে দিয়েছেন।
তুরস্কের মুদ্রা লিরার মান ডলারের বিপরীতে ৪০শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সংকট মোকবেলার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর লিরার মান গড়ে ৭.২৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে। বিশ্ব বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে লিরার মান পতনের দিকে রয়েছে যা দেশটিকে মারাত্মক চাপের মধ্যে রেখেছে।
‘সোসাল মিডিয়াগুলোতে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসীরা ঝেঁকে বসেছে’ প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে এরদোগান এমনটি বলেছেন। তিনি আরো বলেন, বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
‘তারা হচ্ছেন সত্যিকারভাবেই একটি বিশ্বাসঘাতকদের দল’ তিনি যোগ করেন। ‘আমরা তাদেরকে আর একদিনও সময় দিব না…আমরা তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিব।’
চলতি বছরের জুন মাসে পুনঃনির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এরদোগান নতুন ক্ষমতার অধিকারী হন, তার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই এরকম গুজব ছড়াতে থাকে যে, কর্তৃপক্ষ হয়তোবা চলমান অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা কাটানোর জন্য মুদ্রা ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এরপর হঠাৎ করেই ১৮ শতাংশ দরপতনের সম্মুখীন হয়।
তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রনালয় জানায়, তারা ইতিমধ্যে তুর্কি অর্থনীতি সম্পর্কে ভূয়া খবর প্রকাশের দায়ে ৩৪৬টি সোসাল মিডিয়া একাউন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত আরম্ভ করেছে, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিচ্ছে।
সিএনএন তুর্ক এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু জানায়, ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারার আইন কর্মকর্তাদের দপ্তর তুরস্কের অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ এমন সোসাল মিডিয়া পোস্ট শনাক্ত এবং এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য একটি তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।
তুরস্কের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকরাও দেশটির অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এমন ভূয়া খবরের বিরুদ্ধে তদন্ত করার এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে।
সম্প্রতি তুরস্কের অর্থমন্ত্রী বেরাত আলবাইরাক (যিনি এরদোগানের জামাতা), বলেন সোমবার তুরস্ক একটি গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে।
অর্থনীতিবিদগণ বলেন, লিরার দর পতন তুরস্কের অর্থনীতিতে এরদোগানের প্রভাব পড়ার ভীতির কারণ হয়েছে। কারণ তিনি বারবার সুদ কমানোর পক্ষে কথা বলেছেন এবং খ্রিস্টান যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের সম্পর্ককে হুমকির সম্মুখীন করেছেন।
এরদোগান সোমবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তুরস্কের অর্থনৈতিক মন্দাভাবে কোনো অর্থনৈতিক মূলনীতির ভিত্তি নেই, এটা হয়েছে যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের বিচার থামানোর জন্য যুক্তরাষ্টের সন্ত্রাসীমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে একটি ন্যাটো মিত্রের ‘পেছন থেকে চুরি মারার’ সাথে তুলনা করেন।
সূত্রঃ রয়টার্স।