
‘রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন ঈদের পর আরো হবে’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
সোমবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। তিনি আরো বলেন, ঈদগাহ ময়দানে আসার সময় বাইরের গেটে, প্রধান গেটে ও ভেতরে চেকপোস্ট থাকবে। তল্লাশিকালে লম্বা লাইন পড়তে পারে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এসেছে পরিবর্তন। ইতিবাচক পরিবর্তন। আশা করছি, ঈদের পর এই পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।
ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাট ও ঈদযাত্রা যেমন আমরা নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থার মধ্যে সম্পূর্ণ করেছি, তেমনি ঈদের জামাতও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাবে। বাসাবাড়ি, অফিস, বিপণিবিতানগুলোও ফাঁকা থাকবে। এ সময় মহানগরের নিরাপত্তায় পুলিশি টহল থাকবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঈদুল আজহার প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সোয়াট, কাউন্টার টেররিজম ও র্যাব সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠের প্রবেশের তিনটি রাস্তায় থাকবে পুলিশ ব্যারিকেড ও তল্লাশি চৌকি। ঈদগাহ প্রবেশের তিনটি রাস্তা হলো মৎস্য ভবন, শিক্ষা ভবন ও প্রেসক্লাব। পরে এ তিনটি ব্যারিকেডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হয়ে আবার প্রধান ফটকে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে হবে মুসল্লিদের। এ ছাড়া নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশপথ। সেখানে নারী পুলিশরা তল্লাশি করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবার অন্য যেকোনো বারের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি ঈদের জামাতকে নিরাপদ রাখতে ১৪ হাজার ডিএমপির সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া ঈদগাহ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা সিসিটিভির নজরদারি থাকবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে।’
এসময় মুসল্লিদের উদ্দেশে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমি মুসল্লিদের অনুরোধ করে বলব, তারা যেন জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া কোনো জিনিস যেন ঈদগাহ মাঠে নিয়ে না আসেন। তবে প্রয়োজন হলে জায়নামাজ ও ছাতা তল্লাশি করা হতে পারে। তল্লাশি ও নিরাপত্তার কারণে কিছুটা লম্বা লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। তবে মুসল্লিদের বলব, বিরক্ত না হয়ে যেন পুলিশকে সহযোগিতা করবেন।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের এক সভায় ‘ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে শহরে চলাচলের সময় গাড়ির মূল দরজা বন্ধ রাখা, অটোসিগন্যাল ও রিমোট কনট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যালিং পদ্ধতি চালু করার মতো বিষয়গুলো। ১৬ আগস্ট এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। সভায় নিরাপদ সড়ক ও মহাসড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চলমান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। সুপারিশে পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলা হয়, ঢাকা শহরে সব গণপরিবহন, বিশেষত বাস চলাচলের সময় গাড়ির মূল দরজা বন্ধ রাখা এবং বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা নিশ্চিত করতে হবে।
গণপরিবহনে (বিশেষ করে বাস) দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও সহকারীর ছবিসহ নাম এবং চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা; সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরতে হবে এবং সিগন্যালসহ ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। পরিবহন ব্যবস্থাপনার এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিআরটিএ ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।