
চলতি বছরের জুলাইতে ন্যাটোর সম্মেলনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশ দুটির মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তির অবসান ঘটান তারা। এরই জের ধরে তুরস্কের মুদ্রা লিরার জন্য একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে, সাথে সাথে এর ধাক্কা লাগে সারা বিশ্বে।
দ্য গার্ডিয়ান একটি সূত্রে জানতে পেরেছে যে, ট্রাম্প এবং এরদোগানের মধ্যে বৈঠকে হামাসের সাথে যোগসূত্র থাকার দায়ে ইসরাইলে আটক একজন তুর্কি নারীর মুক্তির ব্যাপারে ব্যাপক দরকষাকষি হয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি নারীকে ইসরাইলের বন্দি দশা থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করত তবে তুরস্ক দেশটিতে আটক যুক্তরাষ্ট্রের যাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে মুক্তি দিত বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রটি আরো জানায়, ‘এরদোগান ইসরাইলে আটক তুর্কি নারীকে মুক্ত করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের ওই বৈঠকে একজন দোভাষী ছাড়া আর কেউই ছিল না। ট্রাম্প বলেন, প্রথমেই এন্ড্রু ব্রানসনের ব্যাপারে আমার নিশ্চয়তা চাই। জবাবে এরদোগান বলেন ঠিক আছে। অর্থাৎ তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা এই ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাবো।’
ন্যাটোর ওই সম্মেলনের একদিন পরেই ইসরাইল দেশটিতে আটক তুর্কি নারীকে মুক্তি দেয় কিন্তু তুরস্ক এন্ড্রু ব্রানসনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখে।
সূত্র জানায় ‘বৈঠকের চুক্তি অনুযায়ী ব্রানসনের মুক্ত না হওয়াতে ট্রাম্প দ্বিধান্বিত হয়েছেন।’
এখানে উল্লেখ করা জরুরি, খ্রিস্টান ইভানজেলিকাল কমিউনিটির সদস্য হিসাবে ট্রাম্প এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নিকট এন্ড্রু ব্রানসনের গুরুত্ব রয়েছে এবং তার মুক্তি না হওয়ার জের ধরে দেশটি তুরস্কের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
২০১৬ সালে তুরস্কে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনে ফেতুল্লা গুলেনপন্থীদের মদত দেয়ার দায়ে তুরস্ক ব্রানসনকে আটক করেছে। এর আগে এরদোগান ব্রানসনের বিনিময়ে ফেতুল্লা গুলেনকে তুরস্কের নিকট হস্তান্তর করার প্রস্তাব দেন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা নকচ করে দেয়।
এর পর পরেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি অর্থনৈতীক ঝড় তুলে যার ফলে লিরার মান ডলারের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ কমে যায় যদিও সোমবার এর কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
এরদোগন যুক্তরাষ্টের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসমূলক’ কাজ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি ন্যাটোর মিত্র দেশটি তুরস্কের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে বলে জানান। তবে এর প্রতি উত্তরে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বয়কট করার ঘোষণা দেয়।
সূত্রঃ বিজনেস ইনসাইডার।