
খ্রিস্টান ধর্মযাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে গ্রেপ্তার করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অপমানজনকভাবে হুমকির বিবৃতি দেয়ার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক কারো হুমকির ভাষাকে তোয়াক্কা করে না।’
এরদোগান বলেন, ‘আমাদেরকে হুমকি দিয়ে কেউ কোনোদিন কিছু অর্জন করতে পারেনি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর প্রতি সবচাইতে বেশি সংহতি দেখিয়েছি। কোরিয়া যুদ্ধের সময়ও আমরা তাদের সাথে ছিলাম। তুরস্কের জন্য এরকম অপমানজনক ভাষার হুমকিকে বিবেচনায় নেয়া ঠিক হবে না যেখানে আমরা ন্যাটোর প্রতি সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এবং আমাকে ক্ষমা করুন, কিন্তু এরপরও আমরা এমন হুমকিকে তোয়াক্কা করবো না।’
ধর্মযাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে ঘিরে তুরস্ককে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতির পর বুধবার আঙ্কারায় এরদোগান সাংবাদিকদের এমনটি জানান।
এরই অংশ হিসেবে ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখার কারণে তুরস্ক বড়সড় নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস একটি আইন পাস করে যাতে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান বিক্রয় করার চুক্তির বলবৎ হওয়ার বিষয়টি সাময়িকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ৩০ জুলাই এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যে ভাষায় হুমকি দিয়েছে তা অসম্মানের এবং অগ্রণযোগ্য।’
বিবৃতিটির উদ্বৃতিটি ১ অগাস্ট এরদোগান যুক্ত করে বলেন, ‘তাদের আমাদের চরিত্র সম্বন্ধে জানা উচিত। তাদের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা রয়েছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে একটি মাত্র বক্তৃতা দিয়েছি একটি মাত্র ভাষা ব্যবহার করেছি। আমি আশা করি আমার পররাষ্ট্র মন্ত্রী (মেভলুত কাভুসোগলু) এবং অপরদিকে যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্র মন্ত্রী (মাইক পম্পেও) আলোচনায় বসবেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে তাদের গতকালকের বিবৃতিও এই বিষয়কে নিয়ে যথেষ্ট উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’
‘আমাদের প্রতি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সম্পর্কিত বিবৃতিটি একদম ভি্ত্তিহীন এবং অবিবেচনা মূলক।’- ৩১ জুলাই তুরস্কের বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিগণ এক বিবৃতিতে এমনটি জানায়, যেখানে ১৮টি ধর্মের প্রতিনিধিগণ স্বাক্ষর করেন।
সূত্র: হুররিয়াত ডেইলি নিউজ