
পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ৫৬ ঘণ্টা পর দেশটির নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দেশটির একক বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন বলছে, দেশটির এবারের এগারোতম সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ২৭০ আসনের মধ্যে ইমরানের পিটিআই জয় পেয়েছে ১১৫ আসনে।
এছাড়া দেশটির তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৬৪ আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৪৩ আসনে জয় পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এছাড়া পিএমএল-কিউ ও নবগঠিত রাজনৈতিক দল বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) চার আসনে এবং সিন্ধু প্রদেশেভিত্তিক গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (জিডিএ) মাত্র দুটি আসনে জয় পেয়েছে।
বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তিনটি ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) মাত্র একটি আসনে জয়ী হয়েছে। আওয়ামী মুসলিম লীগ (এএমএল), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসানিয়াত ও জামহুরি ওয়াত্তান পার্টি (জেডব্লিউপি) জাতীয় পরিষদের একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির ১২ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে তাদের সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার গঠন করতে কোনো দলই প্রয়োজনীয় ১৩৭ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গড়ার হিসেব-নিকেশ শুরু করেছে ১১৫ আসনে জয়ী ইমরান খানের পিটিঅাই। এসব ছোট দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনাও শুরু করে দিয়েছে দলটি।
এদিকে পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল সেনা হস্তক্ষেপের বিষয়টি। তবে নির্বাচন শেষে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যা বললেন, তা সমালোচকদের রীতিমতো বিস্মিতই করবে। তারা নাকি কেন্দ্রে মোতায়েন করা সেনাদের কোনো প্রভাব খাটাতে দেখেননি।
এই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং কমনওয়েলথ দুটি পর্যবেক্ষক মিশন পাঠিয়েছিল। শুক্রবার তারা জানায়, ভোটকেন্দ্রে মোতায়েনকৃত সেনারা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব খাটাননি।
অবশ্য সার্বিক যে পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইইউ ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধানরা। একই সঙ্গে তারা ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার উপর জোর দেন।
নিজেদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান মিখাইলে গালের বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের কোনো কর্মকাণ্ড প্রভাবিত করেননি মোতায়েনকৃত সেনারা। তবে গোটা নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশটাই ছিল মূলত উদ্বেগের।