
ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজের সময় এর ভিতরে প্রবেশ করে ২৪ জন ফিলিস্তিনি কিশোর ও তরুণকে আটক করেছে দখলদার ইসরাইলি সেনারা।
ইসলামে পবিত্র এই স্থানটিকে ঘিরে ফিলিস্তিনরা তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা করছে। ইসরাইলি সেনারা এখন প্রায়ই পবিত্র মসজিদটির ভিতর প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, গাজার একজন মেডিকেল কর্মী জানিয়েছেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক সীমান্ত বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী গুলিতে একজন কিশোর সহ দুইজন নিহত হয়েছে।
মসজিদটির একজন বয়স্ক মুসল্লি জানান, মসজিদটির ভিতরে তল্লাশি অভিযান চালানোর পর তাদেরকে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান শেষে সৈন্যরা অন্তত কয়েক ডজন যুবক আটক করে নিয়ে আসতে দেখেছে এবং বলেছিলেন যে, তাদের আটক করার পর মসজিদে পুনরায় নামাজ শুরু করা হয়।
ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সংর্ঘষে তাদের ৪ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইসরাইলি বাহিনীর স্টোন গ্রেনেডের হামলায় তাদের কয়েক ডজন লোক আহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দখলকৃত জেরুজালেমে অব্যাহত ইসরাইলি হামলা উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি করবে এবং এই অঞ্চলে একটি ধর্মীয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে; যেটির বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছি।’
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইলে জেরুজালেম দখল করে নেয়। বর্তমানে পবিত্র মসজিদটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে প্রতিবেশি জর্ডান।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার গাজা সীমান্তের কাছে ৪৩ বছর বয়সি গাজী আবু মুস্তফাকে গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। এ ছাড়া, একই দিন দক্ষিণ গাজার রাফা সীমান্তের কাছে ১৪ বছর বয়সি এক অজ্ঞাত কিশোরকে হত্যা করে ইহুদি সেনারা।
গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা যখন প্রতি শুক্রবার ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তখন ওই দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল তেল আবিব। এ বিক্ষোভের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দেয়ার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদীদের বর্বরোচিত আগ্রাসনের নিন্দা জানান।
গত ৩০ মার্চ থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দখলদার ইসরাইলি সেনারা ১৪০ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইহুদিবাদীদের নৃশংস হামলায় আহত হয়েছেন আরো প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
সূত্র: রয়টার্স