
পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জয় দাবি করে সাবেক ক্রিকেট তারকা ও পিটিআই এর প্রধান ৬৫ বছর বয়সী ইমরান বলেছেন, ২২ বছর আগে আমি যে চিন্তাধারা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা বাস্তবায়ন করতে আল্লাহ আমাকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে নিজ বাড়ি থেকে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ সব কথা বলেন।
নির্বাচনের পুরো ফল পেতে এখনো বেশ সময় বাকি থাকলেও এ পর্যন্ত গণনা হওয়া অর্ধেক ভোটের পরিসংখ্যানে ইমরান খান যে রাজনীতির মাঠেও ‘সেঞ্চুরি’ করে ফেলেছেন তা একরকম নিশ্চিত।
ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানে এ সরকারই প্রথম কোনোরকম রাজনৈতিক দমনপীড়ন চালাবে না। একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ভাষণটি প্রচার করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো বিশেষ করে নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন সমর্থকরা এখনো ইমরানের জয়ের ব্যাপারটি মেনে নিচ্ছেনা। ভোট গণনা এবং ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু ভোট নিয়ে এ বিতর্কের মধ্যেও অনেকেই ইমরানকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা জানিয়েছে, ভাষণে ইমরান খান দেশ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়েছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দেশে বৃহত্তর সংস্কারের পাশাপাশি জনগণের জন্য সর্বাত্মক নীতি নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে ভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদেরকে সব অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন ইমরান।
আবার ভোট নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করেও তিনি বলেছেন, বুধবারের এ নির্বাচন পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।
ইমরান বলেন, আপনারা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে মনে করে থাকলে বা আপনাদের কোনো সন্দেহ থেকে থাকলে আমরা এর তদন্তে সহযোগিতা করব। আমরা আপনাদের পাশে থাকব। আমি মনে করি পাকিস্তানের ইতিহাসে এ নির্বাচনই সবচেয়ে সুষ্ঠু। কোনো দলের কোনো সন্দেহ থাকলে আমরা ওইসব আসনগুলোর ভোটের ফল তদন্ত করে দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেব।
ভাষণে ইমরানের নানা প্রতিশ্রুতি
একটি নতুন পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমরান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আরো শক্তিশালী হবে। প্রত্যেককেই প্রত্যেকের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। প্রথমে আমি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকব। তারপর থাকবে আমার মন্ত্রীরা ও অন্যান্যরা।
দেশের কর ব্যবস্থা উন্নত করা, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহায়তা করা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের দক্ষতা বাড়ানো, কৃষকদেরকে সাহায্য করা এবং সরকারের অর্থ মানব উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানান ইমরান।
দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা এবং সম্পদ বাড়িয়ে দেশের অবস্থার উন্নতি ঘটানোরও সঙ্কল্প ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বিশাল বাসভবনে থাকা তার জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে ইমরান বলেন, এ বাড়িটিকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা এ ধরনের অন্য কোনো কিছু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে চীন, আফগানিস্তান এবং ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ইমরান। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান বলে জানান তিনি।