
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল করিম ফজলু বসতবাড়ীর দুটি ঘরের চালা থেকে সরকারি ত্রাণের ১৭ পিস ঢেউটিন উদ্ধার করার ঘটনায় উপজেলা ত্রান ও দুযোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ- সহকারি প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বাদী হয়ে গতকাল রোববার রাত্রে পলাশবাড়ী থানায় চেয়ারম্যান ফজলুল করিম ফজলুকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ১৫, তারিখ ১৫/০৭/১৮ ইং।
জানা যায়, উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারকে সহায়তাকল্পে অন্যান্য ইউনিয়নের সাথে বেতকাপা ইউনিয়নেও সরকারি ত্রানের ২০ বান্ডিল টিন বরাদ্দ করা হয়। গোটা ইউনিয়নে ২০ জনের মাঝে নিজ গ্রাম হতেই ৮জনের নাম অন্তভুক্ত করেন ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল করিম গোপনে এলাকার চিহ্নিত অগ্রাধিকার তালিকাভূক্ত দরিদ্র পরিবার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি নিজেই ৬ বান্ডিল ঢেউটিন উত্তোলন করেন উক্ত ওয়ার্ডের মেম্বার আলামিনের মাধ্যমে। একত্রে ৬ জনের নামে বরাদ্দকৃত এসব টিন ও চেক প্রদান করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারি মিজান। এই তালিকায় মিজানের নিজের ভাইয়ের নাম রয়েছে ৫ নম্বরে । এসব টিন উত্তোলনের পর বেশকিছু দিন তিনি ঢেউটিন গুলো তার নিজ বাড়ীতেই রাখেন।
এরপর গত শনিবার তিনি তার নিজ বাড়ীর ঘরের চালায় টিনগুলো (৯ফুট টিন:১বান্ডিল=৮পিস:৬ বান্ডিল=৪৮ পিস) ব্যবহার করেন।
এদিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে উপজেলা দুযোগ ও ত্রান অধিদপ্তরের উপ- সহকারি প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাসেল আহমেদ ও অফিস সহকারি আনিসুর রহমান আনিসসহ সঙ্গীয় অন্যান্যরা সরেজমিন গিয়ে প্রথমত: চেয়ারম্যান বাড়ীর ঘরের চালায় ব্যবহৃত ঢেউটিনগুলো সরকারি বলে সনাক্ত করেন।
ঘরেরচালা থেকে ঢেউটিন গুলো খোলার সাথে-সাথেই চেয়ারম্যানের চিহ্নিত নিয়োজিত লোকজনরা সুযোগবুঝে আবারো ওইসব ঢেউটিন গুলো ঘটনাস্থল থেকে লুটপাট করে লোপাট করে। এর পর পরই চেয়ারম্যান ফজলুল করিম ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
প্রথমত উদ্ধারকৃত ৬ বান্ডিল (৪৮পিস) টিনের মধ্য হতে সর্বশেষ চেয়ারম্যান বাড়ী থেকে ৮ পিস এবং পার্শ্ববর্তি মৃত ফয়জার রহমানের ছেলে আজিজের বাড়ি থেকে ৯ পিসসহ ১৭ পিস ঢেউটিন উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো.আরিফ হোসেন সঙ্গীয় থানার এস আই নজরুল ইসলামসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং উদ্ধারকৃত টিনগুলো জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করেন।
চেয়ারম্যানের বাড়ী থেকে টিন উদ্ধারের সময় গ্রাম পুলিশ আশরাফ আলি পুলিশকে সহযোগিতা করার অপরাধে চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের লোকজন গ্রাম পুলিশ আশরাফের বাড়ীতে গিয়ে সোমবার (১৬ জুলাই) সকালে তাকেসহ তার মাকে এবং স্ত্রীকে মারপিট করে। এ ঘটনা সাংবাদিকেরা শুনতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজন সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ক্যামেরাসহ তাদেরকে লাঞ্চিত করে। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার এস,আই এ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।