
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চেয়ারম্যান বাড়ীর ঘরের
চালা থেকে সরকারি ত্রানের ১৭ পিস ঢেউটিন উদ্ধার করা হয়েছে।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোববার দুপুরে বেতকাপা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম ফজলুর বসতবাড়ীতে এক আকস্মিক অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত ওই টিন জব্দ করেছেন।
উপজেলার বন্যাদুর্গত,শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারকে সহায়তাকল্পে অন্যান্য ইউনিয়নের সাথে বেতকাপা ইউনিয়নেও সরকারি ত্রানের টিন বরাদ্দ করা হয়।কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু মিয়া গোপনে এলাকার চিহৃিত অগ্রাধিকার তালিকাভূক্ত দরিদ্র পরিবার প্রধানদের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি নিজেই ৬ বান্ডিল ঢেউটিন উত্তোলন করেন।উত্তোলনের পর বেশকিছু দিন তিনি ঢেউটিন গুলো তার নিজ বাড়ীতেই রাখেন।এরপর গত শনিবার তিনি তার নিজ বাড়ীর ঘরের চালায় টিনগুলো (৯ফুট টিন:১বান্ডিল=৮পিস:৬ বান্ডিল=৪৮ পিস)ব্যবহার করেন।
এদিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে উপজেলা ত্রান বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ ও অফিস সহকারি আনিসুর রহমান আনিসসহ সঙ্গীয় অন্যান্যরা সরেজমিন গিয়ে প্রথমত: চেয়ারম্যান বাড়ীর ঘরের চালায় ব্যবহৃত ঢেউটিনগুলো সরকারি তা সনাক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত স্বয়ং চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের সাথে উপস্থিত দায়ীত্বশীল কর্তাব্যক্তি ও সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতনের সাথে এনিয়ে নানা বাকবিতন্ডাসহ ধাক্কাধাক্কির সূত্রপাত ঘটে। এসময় চেয়ারম্যান সাংবাদিক রতনের ভিডিও ক্যামেরাটি ভাংচুর করে। ঘরেরচালা থেকে ঢেউটিন গুলো খোলার সাথে-সাথেই চেয়ারম্যানের চিহৃিত নিয়োজিত লোকজনরা সুযোগবুঝে আবারো ওইসব ঢেউটিন ঘটনাস্থল থেকে লুটপাট করে লোপাট করে।এর পর পরই চেয়ারম্যান ফজলু ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। প্রথমত উদ্ধারকৃত ৬ বান্ডিল (৪৮পিস)টিনের মধ্য হতে সর্বশেষ চেয়ারম্যান বাড়ী থেকে ৮ পিস এবং পার্শ্ববর্তি জনৈক নজির হোসেনের বাড়ী থেকে ৯ পিসসহ ১৭ পিস ঢেউটিন উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)
ও সহকারি কমিশনার(ভূমি)মো.আরিফ হোসেন সঙ্গীয় থানার এস আই নজরুল ইসলামসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং উদ্ধারকৃত টিনগুলো জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য:বেতকাপা ইউনিয়নে অগ্রাধিকার তালিকাভূক্ত অসহায় গরীব-দুঃখিদের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ২০ বান্ডিল এবং উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ১’শ ৩৫ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবশিষ্ট টিনগুলো উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।